শিক্ষক নিয়োগে নতুন পদ্ধতি, বদলাতে পারে সিলেবাস-নম্বর বণ্টন

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পাশাপাশি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাইয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া পরীক্ষার সিলেবাস ও নম্বর বণ্টনেও পরিবর্তন আসতে পারে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

এনটিআরসিএর প্রস্তাবিত নতুন নিয়োগ কাঠামোয় তিন ধাপে মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি, ১০০ নম্বরের লিখিত এবং ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা রয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মূলত বিধিমালা সংশোধনের পরই চূড়ান্ত সিলেবাস ও পরীক্ষা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে।

প্রিলিমিনারিতে চার বিষয়, থাকবে নেগেটিভ মার্কিং

নতুন প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে প্রথম ধাপে এক ঘণ্টার ১০০ নম্বরের বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর দেওয়া হবে। অন্যদিকে, প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা যাবে ০.২৫ নম্বর। এ ধাপে উত্তীর্ণ হতে পরীক্ষার্থীদের অন্তত ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাসে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান রাখা হয়েছে। প্রতিটি বিষয় থেকে ২৫ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের প্রশ্ন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এ পরীক্ষার জন্য তিন ঘণ্টা সময় নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

তবে প্রস্তাবিত এ পদ্ধতি কার্যকর করতে বিধিমালা সংশোধন করতে হবে। সংশোধিত বিধিমালা অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষার ধাপ, সিলেবাস ও নম্বর বণ্টনের কোনো কিছুই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে না।

নিবন্ধন পরীক্ষা নয়, সরাসরি শিক্ষক নিয়োগ

এবারের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় শুধু পদ্ধতিগত নয়, নিয়োগপ্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। আগে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করা হতো। পরে পৃথক প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হতো। নতুন ব্যবস্থায় নিবন্ধনের মাধ্যমে যোগ্যতা যাচাইয়ের পরিবর্তে পরীক্ষার ভিত্তিতে সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ কারণে আগের ধারাবাহিকতায় ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা হচ্ছে না। এর পরিবর্তে আয়োজন করা হবে নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা।

এনটিআরসিএ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা চলছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর এ পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ।

তবে ডিসেম্বরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে পরীক্ষার তারিখ ও অন্যান্য বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এর আগে ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। ওই পরীক্ষার প্রিলিমিনারি অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালের মার্চে। এরপর দীর্ঘ সময় নতুন নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। এবার সেই নিবন্ধন পরীক্ষার পরিবর্তে নতুন পদ্ধতিতে সরাসরি শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।