আইটেম গানে শুট করায় চড় খেয়েছিলেন ববি

ঢাকাই সিনেমার সুদর্শনা নায়িকা ইয়ামিন হক ববি। ২০১০ সালে শুরু করেছিলেন রূপালি ভুবনে পথচলা। নজর কেড়েছেন কিছু সিনেমায়। লাস্যময়ী রূপে ভক্তদের হৃদস্পন্দন বাড়িয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় অনেক আগেই শক্ত অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিতে। 

তবে বর্তমানে তার ব্যস্ততা বড় পর্দা নিয়ে থাকলেও ববির শুরুটা ছিল মডেলিং দিয়েই। দর্শকদের কাছে ববির পরিচয় কখনো লেডি অ্যাকশন স্টার, আবার কখনো বিজলি। কিন্তু ববির ক্যারিয়ারে এমন অবস্থানে আসার পেছনের গল্প খুব একটা সুখকর ছিল না। যেমন- ইন্ডাস্ট্রিতে ছিল নানা প্রতিকূলতা, আবার ছিল না কোনো পারিবারিক সহায়তাও। সব মিলিয়ে নিজের চেষ্টায়, নিজের মাটি শক্ত করেছেন এই নায়িকা।

ববি

সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ার নিয়ে নানা আক্ষেপের কথা জানালেন ববি। নায়িকা জানালেন, তার বাবার পছন্দের কিছু ছবি করার ইচ্ছে রয়েছে তার। সেগুলো এখনও তিনি করেননি, তাই রয়েছে নানা আক্ষেপ ও ক্ষুধা। তবে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে আসাতে ঘোর আপত্তি ছিল ববির মায়ের। এই নায়িকার মা মনে করতেন, মেয়ে এভাবে সিনেমা করলে অভিভাবক হিসেবে সম্মানহানি হবে তার। ফলে দেশের বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্তও একরকম নিয়ে ফেলেছিলেন ববির মা।

ক্যারিয়ারে নিজের কাজের আক্ষেপ নিয়ে ববি বলেন, ‘আমি বাবার সঙ্গে বেশ কিছু ছবি দেখে বড় হয়েছি। যেমন দীপু নম্বর টু, শাবানা আজমির আর্ট, উত্তম সুচিত্রার ছবি- যা বাবার খুব পছন্দ। আমি চাচ্ছি এখনও কিছু কাজ করব। অনেকে বলেন আমি সাকসেসফুল হিরোইন- এখন অন্যকিছুর চেষ্টা করো।  কিন্তু আমার মনে যে খিদা রয়ে গেছে, আমি কিছু গল্প করতে চাই আমার বাবার জন্য।’

ববি বলেন, ‘আমার ছবি অডিয়েন্স পছন্দ করেছে, আই রেস্পেক্ট দ্যাট। কিন্তু কমার্শিয়াল ছবিও ইন্ডাস্ট্রিজে থাকতে হয়, সেটা অনেক পরে বুঝেছি। আমি কাজ করেছি, চোখ মুখ বন্ধ করে। তবে ইন্ডাস্ট্রিতে এমন বাজে সময়ে এসেছি, তাই খুব গর্ব হয়। আবার তখন পরিবার থেকেও ১ শতাংশ সাপোর্ট পাইনি।’

ক্যারিয়ার নিয়ে পরিবারে কতটা খারাপ সময় কেটেছে তার, তা তুলে ধরে ববি বলেন, ‘একটা সময় অনেক বাজে সময় আমি পার করেছি। মায়ের সঙ্গে আমার যে লড়াইটা চলেছে কাউকে ভাষায় বলার মতো না। আমার কিছু কোল্ড জুয়েলারি, ক্রেস্ট ও কিছু ক্যাশ আমি বাসায় এনে দিয়েছিলাম। আমার মা এসব দেখে ছুঁড়ে ফেলেন। বাইরেও পলিটিক্সের শিকার হয়েছি, বাসায় এসে চড়ও খেয়েছি; যেমন আমি দেহরক্ষী আইটেম গানে শুট করে বাসায় গিয়ে মার খেয়েছিলাম।’