স্বেচ্ছায় রিহ্যাবে গেলেন পপ তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স

মার্কিন পপ তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স মদ্যপ ও মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। যেতে হয়েছিল জেলেও। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় অপরাধটি ঘটান এই শিল্পী। এবার নিজের মধ্যে পরিবর্তন আনতে স্বেচ্ছায় পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব) ভর্তি হয়েছেন তিনি।

ব্রিটনির একজন প্রতিনিধি আমেরিকান ম্যাগাজিন রোলিং স্টোনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ব্রিটনির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে জীবনধারায় পরিবর্তন আনতে চান। সে লক্ষ্যেই স্বেচ্ছায় রিহ্যাবে ভর্তি হয়েছেন। তার ঘনিষ্ঠদের মতে, পরিবারও এ সিদ্ধান্তে তাকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

এর আগে গত ৪ মার্চ ব্রিটনিকে মদ্যপ ও মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়।

ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, কর্মকর্তারা তার মধ্যে মাদকাসক্তের লক্ষণ দেখতে পান এবং তাকে একাধিক টেস্টে অংশ নিতে বলা হয়।

পরে তাকে ক্যালিফোর্নিয়া ভেহিকল কোড ২৩১৫২(জি) অনুযায়ী অ্যালকোহল ও মাদকের প্রভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ভেনচুরা কাউন্টি প্রধান কারাগারে নেওয়া হয়।

ওই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তারের পর ব্রিটনির প্রতিনিধি জানান, তার জীবনে পরিবর্তন আনা খুব দরকার। তিনি নিজেই বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

ব্রিটনির প্রতিনিধি বলেন, এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে ব্রিটনি সঠিক উদ্যোগ নেবেন এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন। আশা করি, এটি তার জীবনে পরিবর্তনের প্রথম ধাপ হবে। এই কঠিন সময়ে তিনি যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমর্থন পান, সেটিই আমাদের কামনা।

তিনি আরও যোগ করেন, ব্রিটনির ঘনিষ্ঠজনরা তার সুস্থতা ও ভবিষ্যৎ সফলতার জন্য একটি পরিকল্পনা করবেন।

পরবর্তীতে ব্রিটনি নিজেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি লেখেন, তোমাদের সবার সমর্নের জন্য ধন্যবাদ। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো সত্যিই অনেক ভালো। সবার প্রতি অনুরোধ, আমার পাশে থাকবেন।

উল্লেখ্য, ২০০৭-০৮ সালে তার মানসিক স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময় আদালতের নির্দেশে তার ওপর ‘কনজারভেটরশিপ’ আরোপ করা হয়, যার মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত ও আর্থিক সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় তার বাবা জেমি স্পিয়ার্সের হাতে।

দীর্ঘ ১৩ বছর পর ২০২১ সালে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সেই নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি পান তিনি। ‘ফ্রি ব্রিটনি’ আন্দোলনের সাফল্যের মধ্য দিয়ে নিজের জীবনের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান এই পপ তারকা।