বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় তিন সন্দেহভাজনকে রাজস্থানের কোটা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় একটি ফুটবল ক্লাব থেকে অভিনেতা বের হওয়ার সময় রোববার রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশের দাবি, হামলার পর অভিযুক্তরা প্রথমে মুম্বাইয়ের আন্ধেরি ওয়েস্ট রেলওয়ে স্টেশনের কাছে মোটরসাইকেলটি ফেলে ট্রেনে ওঠেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল দিল্লি হয়ে নেপালে পালিয়ে যাওয়া।
পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হামলা চালানোর জন্য তিন অভিযুক্তকে অগ্রিম মোট ৫০ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল। গুলিবর্ষণে তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল এবং তিনজনই সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছিলেন কি না, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।
ঘটনার সময় ৩৬ বছর বয়সি টাইগার শ্রফ গাড়ির সামনের আসনে বসে ভক্তদের দিকে হাত নাড়ছিলেন। গাড়ির জানালা বন্ধ থাকলেও বাইরে থেকে তাকে দেখা যাচ্ছিল। এ সময় এক ব্যক্তি দুই হাতে বন্দুক ধরে গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালান। ভিডিওতে পাশ থেকে আরেক ব্যক্তিকেও গুলি ছুড়তে দেখা যায়। ঘটনাস্থলের কাছে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে তৃতীয় ব্যক্তি অপেক্ষা করছিলেন। পরে তিনজনই ওই মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান বলে ভিডিওতে দেখা গেছে।
পুলিশের ধারণা, হামলাকারীরা আন্ধেরি ওয়েস্ট রেলওয়ে স্টেশনের কাছে মোটরসাইকেলটি ফেলে বোরিভলির দিকে যাওয়ার ট্রেনে ওঠেন। পরে তারা পুনে-জয়পুর এক্সপ্রেসে করে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হন।
কোটা পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট তেজস্বিনী গৌতম সাংবাদিকদের বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ এ বিষয়ে তথ্য পায়। এরপর স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, প্ল্যাটফর্মসহ বিভিন্ন স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়। তথ্য পাওয়ার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে কোটা সিটি পুলিশের দল ট্রেনটিতে তল্লাশি চালিয়ে তিন সন্দেহভাজনকে আটক করে।
তিনি বলেন, “ট্রেনটি ছিল পুনে-জয়পুর এক্সপ্রেস। মুম্বাই পুলিশের সদস্যরা এখানে এসেছেন। আমরা আটক ব্যক্তিদের তাদের কাছে হস্তান্তর করব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তাদের একজন র্যাপিডো চালক। অন্য দুজনের একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং অপরজন রেহান। তারা হরিয়ানার সোনিপতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল এই ট্রেনে দিল্লি যাওয়া এবং সেখান থেকে নেপালে পালিয়ে যাওয়া।”
আটক তিনজনের পরিচয়ও জানিয়েছেন তেজস্বিনী গৌতম। তারা হলেন হরিয়ানার সোনিপতের রেহান, যার ডাকনাম সুক্কা; বিহারের বেগুসরাইয়ের হৃতিক কুরমি, যার ডাকনাম রোশন এবং যিনি গত কয়েক বছর ধরে মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে বসবাস করছিলেন; আর একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাদের মুম্বাই পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে সিগন্যাল ও টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান এবং নিজেদের অবস্থান জানানো হচ্ছিল। তবে আটকের সময় তারা ট্রেনের সাধারণ কামরায় ভ্রমণ করলেও এখনো গুলি চালানোর অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
টাইগার শ্রফ আশির দশকের জনপ্রিয় অভিনেতা জ্যাকি শ্রফের ছেলে। হামলায় তিনি গুরুতর আহত না হলেও তার গাড়ির চালক এবং একটি অটোরিকশার চালক আহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে দাবি করেন, বারুদের গুঁড়া ও কাচের টুকরার আঘাতে অভিনেতার বাঁ হাতে চোট লেগেছে।
রোববার গভীর রাতে টাইগার শ্রফের সঙ্গে দেখা করার পর একনাথ শিন্ডে বলেন, “গুলির জবাব গুলি দিয়েই দেওয়া হবে।” মুম্বাইয়ে গ্যাং-সংঘাত কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে পোস্টটির সত্যতা এখনো যাচাই করেনি পুলিশ।
সূত্র: এনডিটিভি