কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বোঝা ক্রমেই কঠিন করে তুলছে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন অভিনেতা জর্জ ক্লুনি। তার মতে, এআইনির্ভর ভুয়া ভিডিও ও কনটেন্ট শুধু চলচ্চিত্রশিল্প নয়, সাংবাদিকতা, সরকার এবং সাধারণ মানুষের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ক্লুনি এসব কথা বলেন। জীবনব্যাপী অবদানের জন্য এবারের উৎসবে গোল্ডেন লায়ন সম্মাননা নিতে সেখানে গেছেন তিনি।
ক্লুনি বলেন, এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে কোনটি সত্য আর কোনটি মিথ্যা, তা শনাক্ত করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ডিপফেক প্রযুক্তি ও এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট বাস্তব তথ্যের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট করছে।
তার মতে, সবচেয়ে বড় বিপদ হলো মানুষ যখন প্রকৃত ঘটনাকেও ভুয়া বলে সন্দেহ করতে শুরু করবে। এতে সত্য তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন দুইবার অস্কারজয়ী এই অভিনেতা। সম্প্রতি এআই প্রযুক্তির শীর্ষস্থানীয় নির্মাতাদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে জানিয়ে ক্লুনি বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিদ্যমান সুরক্ষা ব্যবস্থা যথেষ্ট এগোতে পারছে বলে তিনি মনে করেন না।
নিজের অবয়ব ও পরিচয় ভবিষ্যতে এআইয়ের মাধ্যমে ব্যবহৃত হতে পারে, এ নিয়েও রসিকতার ছলে উদ্বেগ জানান তিনি। মৃত্যুর বহু বছর পর নিজের মুখ কোনো বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত হোক, তা তিনি চান না বলেও মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকতার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ক্লুনি। তার মতে, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের হাতে সংবাদমাধ্যমের মালিকানা ক্রমেই কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। এ অবস্থায় তথ্যের স্বাধীন প্রবাহ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে নানা বাধার মধ্যেও তথ্য শেষ পর্যন্ত মানুষের কাছে পৌঁছানোর পথ খুঁজে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় প্যারামাউন্টের ওয়ার্নার ব্রাদার্স অধিগ্রহণের প্রস্তাব নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন ক্লুনি। তার মতে, গণমাধ্যমের মালিকানা একীভূত হলে প্রায়ই কর্মসংস্থান কমে যায় এবং এ ধরনের বড় চুক্তি বাস্তবায়ন করাও কঠিন। প্রস্তাবিত অধিগ্রহণটি আর্থিকভাবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রায় তিন দশক ধরে নিয়মিত উপস্থিতি রয়েছে ক্লুনির। ১৯৯৮ সালে তার অভিনীত আউট অব সাইট ছবির প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে উৎসবটির সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্কের শুরু। ৬৫ বছর বয়সে জীবনব্যাপী সম্মাননা পাওয়ার অনুভূতি নিয়ে রসিকতা করে তিনি বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে জীবনের সবকিছুর মধ্যেই এক ধরনের বিষণ্নতা চলে আসে। সূত্র: রয়টার্স