ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা নামলো

দেশের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র আয়োজন ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’ ২৪তম আসরের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে রোববার (১৮ জানুয়ারি)। ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ স্লোগান নিয়ে আয়োজিত ৯ দিনের এই উৎসব সমাপ্তি ঘটে ৯১টি দেশের ২৪৫টি চলচ্চিত্রের প্রদর্শনীর মাধ্যমে। উৎসবটি রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত হয় এবং বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র প্রেমী দর্শকদের জন্য ছিল এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।

সমাপনী অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির নির্বাহী সদস্য ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, চীনের কালচারাল কাউন্সিলর লি শিয়াও পেং, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ মার্ক সেরে শার্লেট এবং আঁলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দে ঢাকার পরিচালক ফ্রাঁসোয়া শঁব্রো। এছাড়া সংগীতশিল্পী আহমেদ হাসান সানি অনুষ্ঠানে মনমুগ্ধকর পরিবেশন করেন।

এবারের উৎসবের সবচেয়ে বড় চমক ছিল এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগ, যেখানে সেরা চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে কিরগিজস্তানের ছবি ‘কুরাক’। পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীর ক্ষমতাহীনতা ও অধিকার লঙ্ঘনের বাস্তব ঘটনা নিয়ে নির্মিত এই ছবিটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র মঞ্চে ইতিমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। এর আগেও, বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বাংলাদেশ জুলাই মেমোরিয়াল প্রাইজ’ জিতেছিল ছবিটি।

এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে সেরা নির্মাতার পুরস্কার অর্জন করেন আজারবাইজানের পরিচালক এমিন আফান্দিয়েভ (আ লোনলি পারসন মনোলোগ)। অন্যদিকে, কাজাখস্তানের সিনেমা ‘আবেল’-এর জন্য সেরা অভিনেতা নির্বাচিত হন ইয়ারলান এবং ইরানি সিনেমা ‘দ্য হাসব্যান্ড’-এর জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান ফারিবা নাদেরি। সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে পুরস্কৃত হন দাস্তান মাদালেভ ও এইজদা আমাঙ্গেলডে।

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রেও ছিল নজরকাড়া সাফল্য। বাংলাদেশ প্যানোরামা বিভাগের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে ফিপ্রেস্কি জুরির সেরা পুরস্কার জিতেছে মনিরুল হক পরিচালিত ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’। এ বিভাগে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে সেরা হয়েছে তানহা তাবাসসুমের ‘হোয়াট ইফ’। 

এছাড়া ট্যালেন্ট সেকশনে ফার্স্ট রানারআপ হয়েছে উম্মিদ আশরাফ পরিচালিত ‘ধ্যাৎ!’ এবং সেকেন্ড রানারআপ নির্বাচিত হয়েছে আবির ফেরদৌস মুখর নির্মিত ‘ইস্পিতে’।

উৎসবে বিশেষ কিছু সেকশনে বিভিন্ন চলচ্চিত্র পুরস্কৃত হয়েছে। উইমেন্স ফিল্মমেকার সেকশনে সেরা ফিকশন ফিল্ম নির্বাচিত হয়েছে পলিনা কোন্ড্রাতেবার রাশিয়ান ছবি ‘ফ্রম স্ক্রেচ’ এবং সেরা প্রামাণ্যচিত্র হয়েছে ‘লিটল সিরিয়া’। চিলড্রেন ফিল্ম সেকশনে বাদল রহমান অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে চীনের সিনেমা ‘কুইংটন এন্ড কুইহুয়া’।

এবারের উৎসবে ছিল ভিন্নতা, বিশেষত নতুন ভেন্যু এবং আয়োজনের মাধ্যমে। ঢাকার জাতীয় জাদুঘর, শিল্পকলা একাডেমি, আঁলিয়ঁস ফ্রঁসেজ এবং স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি কক্সবাজারের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টেও চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সহযোগিতায় এই উন্মুক্ত প্রদর্শনী দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

উৎসবের সমাপনী বক্তব্যে ফেস্টিভ্যাল ডিরেক্টর আহমেদ মুজতবা জামাল ঘোষণা দেন, আগামী আসর ২০২৭ সালের ৯ থেকে ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে, যা হবে উৎসবের রজতজয়ন্তী বা ২৫তম আসর।