৬০ লাখ ডলারের গয়না লুট, মাত্র ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ পেলেন কিম কার্দাশিয়ান

২০১৬ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সশস্ত্র ডাকাতির শিকার হওয়ার ঘটনায় কিম কার্দাশিয়ানকে মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মাত্র ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন প্যারিসের একটি আদালত। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৬০ টাকা। তবে কার্দাশিয়ান নিজেই এই পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন বলে মামলার সঙ্গে যুক্ত একজন আইনজীবী জানিয়েছেন।

ডাকাতির ঘটনাটিকে কার্দাশিয়ান তাঁর ‘জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। গত বছর এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে আটজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এরপর থেকেই ওই স্মৃতি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

এক যৌথ বিবৃতিতে কার্দাশিয়ান ও তাঁর পোশাক পরিকল্পনাকারী সিমন হারুশ ফ্রান্সের বিচারব্যবস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, অভিজ্ঞতাটি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ছিল এবং এর প্রভাব এখনো তাঁদের মনে রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, আদালতের রায় শুধু ক্ষতিপূরণের বিষয় নয়, বরং জবাবদিহি ও স্বীকৃতিরও প্রমাণ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আদালত ও পুরো বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাঁরা তাঁদের সমর্থন করেছেন, তাঁদের সবার প্রতি তাঁরা কৃতজ্ঞ। এখন তাঁরা ঘটনাটি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে এবং মানসিক ক্ষত সারিয়ে তুলতে চান।

ওই মামলার এক আইনজীবী জানান, আদালত হোটেল দ্য পোরতালেসের একজন সাবেক অভ্যর্থনাকর্মীকে ১ লাখ ৯ হাজার ৫১৬ ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ডাকাত দল যখন কার্দাশিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তখন ওই কর্মী হোটেলটিতে দায়িত্বে ছিলেন।

ওই অভ্যর্থনাকর্মী জানান, ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর ফ্যাশন সপ্তাহ চলাকালে গয়না ডাকাতির ওই ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ক্ষতিপূরণ ও সুদ বাবদ তিনি সাড়ে ৫ লাখ ইউরো দাবি করেছিলেন। তাঁর আইনজীবী মোহান্দ উইদজা আদালতের রায়কে বিজয় হিসেবে উল্লেখ করে স্বাগত জানিয়েছেন।

কার্দাশিয়ান ও অন্যদের বিষয়ে দেওয়া আদালতের লিখিত রায়গুলো অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকদের সামনে পড়ে শোনান ওই আইনজীবী।

আদালত হোটেলটিকেও ৫০ হাজার ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ডাকাতির সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কার্দাশিয়ানের পোশাক পরিকল্পনাকারী হারুশকেও তাঁর দাবি করা ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।

বিচার চলাকালে কার্দাশিয়ানের পক্ষে কাজ করা ফরাসি আইনজীবীরা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের পাঠানো খুদে বার্তা ও ফোনকলের জবাব দেননি।

২০১৬ সালের ওই ঘটনায় ডাকাত দলের দুই সদস্য পুলিশের ছদ্মবেশে জোর করে কার্দাশিয়ানের হোটেলকক্ষের স্যুইটে প্রবেশ করেন। পরে জিপ টাই ও টেপ দিয়ে তাঁকে বেঁধে ৬০ লাখ ডলারেরও বেশি মূল্যের গয়না নিয়ে পালিয়ে যান। লুট হওয়া গয়নার মধ্যে একটি হীরার আংটিও ছিল, যেটি কার্দাশিয়ান ওই রাতেই গিভেঞ্চির একটি অনুষ্ঠানে পরেছিলেন।

বয়সের কারণে ফ্রান্সে ডাকাত দলটি ‘দাদু ডাকাত’ নামে পরিচিতি পায়। সশস্ত্র ডাকাতি, অপহরণ, সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁদের বিচার হয়। বিচার শুরুর সময় তাঁদের মধ্যে ছয়জনের বয়স ছিল ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে।

বিচার-পূর্ব আটকাবস্থায় এরই মধ্যে সাজা ভোগ করে ফেলায় দোষী সাব্যস্ত কাউকেই নতুন করে কারাগারে যেতে হয়নি। তাঁদের কেউ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও করেননি।

ডাকাতদের দোষী সাব্যস্ত করার পর দেওয়া এক বিবৃতিতে কার্দাশিয়ান ফরাসি কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য তিনি ফরাসি কর্তৃপক্ষের কাছে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।

কার্দাশিয়ান আরও বলেন, ডাকাতির ঘটনাটি ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা এবং এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়েছে তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর। ঘটনাটি তিনি কখনো ভুলতে পারবেন না। তবে মানুষের মানসিক উত্তরণ ও জবাবদিহির শক্তিতে বিশ্বাস করেন এবং সবার ক্ষত সেরে ওঠার জন্য প্রার্থনা করেন।