বলিউড ও দক্ষিণী সিনেমার আলোচিত তারকা জুটি বিজয় দেবরাকোন্ডা এবং রাশমিকা মান্দান্না। সম্প্রতি এই দম্পতিকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। ভক্তদের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে—বিজয় ও রাশমিকার সম্পর্কে কি কোনো টানাপোড়েন চলছে? এমনকি নেটদুনিয়ায় কেউ কেউ তো তাদের বিচ্ছেদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন!
পুরো ঘটনার সূত্রপাত মূলত বিজয়ের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে।
দেখা গেছে, ইনস্টাগ্রামে কাউকেই ফলো করেন না বিজয় দেবরাকোন্ডা; তার ফলোয়িং লিস্ট একদম শূন্য। তারকারা সাধারণত তাদের জীবনসঙ্গী বা পরিবারের সদস্যদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলো করে থাকলেও বিজয় ব্যতিক্রম। আর এই বিষয়টিই নজর এড়ায়নি নেটিজেনদের।
বিজয়ের ফলোয়িং তালিকা শূণ্য দেখেই অনেকে ভুল বুঝতে শুরু করেন। এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী দাবি করে বসেন, ‘ব্রেকিং নিউজ! রাশমিকা মান্দান্না এবং বিজয় দেবরাকোন্ডা একে অপরকে আনফলো করে দিয়েছেন। এর আসল কারণ কী?’ এই পোস্টের পরই শুরু হয় সম্পর্কে ফাটল ধরার গুঞ্জন।
তবে রাশমিকা ও বিজয়ের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল যাচাই করে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বিজয় কাউকেই ফলো করেন না—এটা তার পুরোনো অভ্যাস।
অন্যদিকে, রাশমিকা মান্দান্না কিন্তু ঠিকই তার স্বামী বিজয়কে ইনস্টাগ্রামে ফলো করে যাচ্ছেন। ফলে ‘একে অপরকে আনফলো করার’ দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
অনেক ভক্তও বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেছেন, ‘তারা তো শুরু থেকেই একে অপরকে ফলো করতেন না।’ আর সোশ্যাল মিডিয়ায় কে কাকে ফলো করল বা করল না, তা দিয়ে সম্পর্কে সমস্যা আছে কিনা—এমন অনুমান করা বোকামি বলেই মনে করছেন সচেতন ভক্তরা।
ইনস্টাগ্রামের গুঞ্জনের পাশাপাশি এই দম্পতির সাম্প্রতিক একটি টক শোর মন্তব্যও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। করণ জোহরের জনপ্রিয় শো ‘কফি উইথ করণ ৯’-এ অতিথি হয়ে এসেছিলেন এই দম্পতি। সেখানে রাশমিকা খোলামেলাভাবে জানান যে, তিনি নিজে থেকেই প্রায় এক বছর ধরে বিজয়কে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে গেছেন। রাশমিকার ভাষায়, তিনি বারবার বিজয়কে বলতেন, ‘চলো বিয়ে করে ফেলি!’
সম্পর্কের শুরুতে নিজে উদ্যোগ নেওয়ার কথা প্রকাশ করার পর বিজয় মজার ছলে মন্তব্য করেন যে, এই কথা শোনার পর তাকে নিয়ে ট্রল হতে পারে। তার এই আশঙ্কাই সত্যি হয় এবং শো প্রচারের পর থেকেই অনলাইন ট্রলের শিকার হন অভিনেতা। মূলত এরপরই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, এ কারণেই হয়তো অভিমান করে স্ত্রী রাশমিকাকে আনফলো করেছেন অভিনেতা।
তবে সামাজিক মাধ্যমে যাই আলোচনা চলুক না কেন, ইনস্টাগ্রামে কাউকে ফলো না করার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং একটি টকশো-এর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই গুঞ্জনগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। এই তারকা দম্পতিকে নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই, তবে তাদের মাঝে সম্পর্কের কোনো অবনতি ঘটেনি বলেই ধারণা করা হচ্ছে।