ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের কনসীমা জেলায় জামাই আদরের এক অবিশ্বাস্য ও চোখ ধাঁধানো আয়োজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মামিডিকুদুরু মণ্ডলের আদুরু গ্রামের বাসিন্দা বিজ্জাপু বেঙ্কট রত্নম ও তার স্ত্রী সুশীলা তাদের মেয়ে কীর্তিশ্রীর স্বামী বোদ্দু সাই শরথের প্রথম শ্বশুরবাড়ি আগমন উপলক্ষে এক রাজকীয় ভোজের আয়োজন করেন।
সংক্রান্তি উৎসবকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই ভোজে টেবিলে সাজানো ছিল মোট ১৩৭৪ পদের খাবার যা দেখে খোদ জামাই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
খাবারের দীর্ঘ তালিকায় ছিল নানা পদের বিরিয়ানি থেকে শুরু করে বার্গার, বিভিন্ন ভাজা খাবার, হরেক রকমের মিষ্টি, তাজা ফলের রস এবং গোধাবরী বদ্বীপ অঞ্চলের বিখ্যাত সব ঐতিহ্যবাহী পদ। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায় সারি সারি টেবিলে থরে থরে সাজানো খাবারের সামনে বসে আছেন নবদম্পতি।
তবে এই বিপুল পরিমাণ খাবারের অপচয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা। অনেক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন এত পদের খাবার একজন মানুষের পক্ষে খাওয়া অসম্ভব এবং এই খাবারগুলো অভাবী শিশুদের মধ্যে বিলিয়ে দিলে তা আরও বেশি মহৎ কাজ হতো। কেউ কেউ আবার বিষয়টিকে নিছক আভিজাত্যের প্রদর্শন বলে কটাক্ষ করেছেন। এর আগে তেনালি শহরেও এক পরিবার তাদের জামাইয়ের জন্য ১৫৮টি পদ তৈরি করে আলোচনায় এসেছিল কিন্তু ১৩৭৪ পদের এই রেকর্ড সব কিছুকে ছাড়িয়ে গেছে।
গোধাবরী অঞ্চলের এই জাঁকজমকপূর্ণ রীতিটি যেমন ঐতিহ্যের গর্ব হিসেবে পরিচিত তেমনি আধুনিক সময়ে সম্পদের অপচয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। একদিকে শ্বশুরবাড়ির আন্তরিকতা ও ভালোবাসার প্রশংসা করা হলেও অন্যদিকে লোকদেখানো আয়োজনের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।