আজ পহেলা মে, বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’, যা ইতিহাসে ‘মে দিবস’ নামে সমধিক পরিচিত। বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে আজ জাতীয় ছুটির দিন, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। উপযুক্ত মজুরি এবং দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে শ্রমিকদের দীর্ঘ বঞ্চনা ও রক্তঝরা সংগ্রামের স্মারক হিসেবে দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।
মে দিবসের সূচনা হয়েছিল ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে। তৎকালীন সময়ে শ্রমিকরা দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে ১০-১২ জন শ্রমিক নিহত হন। এই আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে পহেলা মে-কে ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের আট ঘণ্টা কাজের দাবিটি বিশ্বজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায়।
পহেলা মে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, মিশর, আলজেরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পালন করা হলেও আমেরিকা ও কানাডায় সেপ্টেম্বর মাসে শ্রম দিবস পালিত হয়। ১৮৮৭ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড মে দিবসের আয়োজন হানাহানিতে পর্যবসিত হতে পারে— এমন আশঙ্কায় ভিন্ন দিনে দিবসটি পালনের প্রতি ঝুঁকে পড়েন।
ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে মে দিবস বামপন্থি ও সমাজতান্ত্রিক দলগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন, কিউবা ও চীনে দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। মস্কোর রেড স্কয়ারে একসময় বিরাট সমাবেশের মাধ্যমে সামরিক শক্তিমত্তাও প্রদর্শন করা হতো। সমাজতান্ত্রিক নেতারা বিশ্বাস করতেন, এই উৎসব পুঁজিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে শ্রমিক শ্রেণিকে একতাবদ্ধ করবে।
বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মধ্যে মাত্র ৮০টি দেশে এই দিবসটি সরকারিভাবে মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়। আধুনিক যুগেও শ্রমিক ও ইউনিয়নগুলো আরও ভালো কাজের পরিবেশের দাবিতে র্যালি ও সমাবেশ করে থাকে। অনেক স্থানে সুবিধাবঞ্চিত শ্রমিক পরিবারকে সহায়তায় পোশাক অনুদান বা স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের মাধ্যমেও দিনটি উদযাপন করা হয়।