ঢাকাসহ সারাদেশে শীত বাড়ার পূর্বাভাস

রাজধানী ঢাকায় আজ রোববার (৪ ডিসেম্বর) মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। আজ থেকে আগামী কয়েকদিন সারাদেশে তাপমাত্রা কমতে পারে- ফলে শীত বেশি অনুভূত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ রোববার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল দেশের তিন স্থানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্থানগুলো হলো নওগাঁর বদলগাছী, পাবনা ও রাজশাহী। সেই তুলনায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আজ বেড়েছে।

তবে রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা আজ খানিকটা কমেছে। আজ সকালে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, গতকাল তা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, রাজধানীতে শীতের প্রকোপ গতকালের চেয়ে খানিকটা বেড়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। আজ দিনের তাপমাত্রা হয়তো এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। কিন্তু রাতের তাপমাত্রা আবার কমে যেতে পারে।

আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা আরও বলেন, আজ রোববার থেকে আগামী দুই-এক দিন সারাদেশের তাপমাত্রা কমতে পারে। এটি অব্যাহত থেকে ৭ তারিখে এক ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়তে পারে। তবে আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে তাপমাত্রা দুই-তিন ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত তাপমাত্রা নির্ভর করে কুয়াশার ওপর। এটি বেশি হলে তাপ কমে শীত অনুভূত হয়। আগামী কয়েকদিন সারাদেশে কুয়াশা বেশি পড়তে পারে। ফলে শীত বেশি অনুভূত হতে পারে।

আজ রোববার সকাল ৯টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, যশোর, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলাসমূহের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে সারাদেশে শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে।

অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া এ মাসের দীর্ঘকালীন পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে দেশের ওপর দিয়ে অন্তত পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

যখন কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তখন তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে বলা হয় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। আর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। নদী সমূহে স্বাভাবিক পানি প্রবাহও বিরাজমান থাকতে পারে।