দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নিখোঁজ থাকার পর রহস্যময় এবং বর্ণিল ‘লার্জ টর্টোইসশেল’ (Large Tortoiseshell) প্রজাপতি আবার যুক্তরাজ্যের আকাশে ডানা মেলতে শুরু করেছে। এক সময় ব্রিটেন থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এই পতঙ্গটিকে এখন পুনরায় দেশটির ‘স্থায়ী বাসিন্দা’ (Resident Species) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বসন্তের শুরুতে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন বনাঞ্চলে এই প্রজাপতির দেখা মেলায় পরিবেশবাদীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।
এই প্রজাপতির প্রত্যাবর্তনের ফলে ব্রিটেনের আদিবাসী বা স্থায়ী প্রজাপতির তালিকায় প্রজাতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০-এ। কেন্ট, সাসেক্স, হ্যাম্পশায়ার, ডরসেট, কর্নওয়াল এবং আইল অফ ওয়াইট অঞ্চলে এদের দেখা পাওয়া গেছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থা ‘বাটারফ্লাই কনজারভেশন’-এর ৫৮ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম লার্জ টর্টোইসশেলকে পরিযায়ী নয়, বরং ব্রিটেনের স্থায়ী প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করা হলো।
সাধারণ ‘স্মল টর্টোইসশেল’ প্রজাপতি সচরাচর মানুষের বাগানে দেখা যায় এবং এদের শুঁয়োপোকা নেটল (Nettle) গাছ খেয়ে বেঁচে থাকে। কিন্তু লার্জ টর্টোইসশেল সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। এরা মূলত গাছে বাস করে এবং এদের শুঁয়োপোকা এলম, উইলো এবং পপলার গাছের পাতা খেয়ে বড় হয়। এই প্রজাতির প্রজাপতিগুলো আকারে বড় হয় এবং এদের ডানায় সাধারণ প্রজাপতির মতো সাদা দাগ থাকে না।
১৯৪০-এর দশকে ব্রিটেনে এই প্রজাতির ব্যাপক উপস্থিতি থাকলেও ১৯৬০ সালের পর এরা বিলুপ্ত হয়ে যায়। ডাচ এলম রোগের কারণে এলম গাছ কমে যাওয়াকে তখন এদের বিলুপ্তির কারণ মনে করা হয়েছিল। তবে গবেষকরা বর্তমানে বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপের মূল ভূখণ্ড (ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস) থেকে এই প্রজাপতিগুলো এখন উত্তর দিকে সরে এসে ব্রিটেনে পুনরায় আবাস গড়ছে। ২০২০ সাল থেকে ব্রিটিশ বনাঞ্চলে এদের শুঁয়োপোকা খুঁজে পাওয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তারা এখানে বংশবিস্তার শুরু করেছে।
বাটারফ্লাই কনজারভেশন সংস্থাটি সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছে যেন তারা কোথাও এই প্রজাপতিটি দেখতে পেলে ‘iRecord’ নামক অ্যাপের মাধ্যমে তার অবস্থান জানান। এর ফলে গবেষকরা এই প্রজাতির বিস্তার এবং বংশবিস্তার সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।