এল নিনো (El Niño) ও লা নিনা (La Niña) কী?
এল নিনো এবং লা নিনা হলো প্রশান্ত মহাসাগরের জলবায়ুর একটি পর্যায়বৃত্ত পরিবর্তন, যা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়াকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। এদেরকে একত্রে *ENSO (El Niño-Southern Oscillation)* বলা হয়।
এল নিনো (El Niño)
"এল নিনো" একটি স্প্যানিশ শব্দ যার অর্থ "ছোট বালক"।
এটি ঘটে যখন প্রশান্ত মহাসাগরের বিষুবীয় অঞ্চলের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায় (উষ্ণ হয়)।
এর ফলে স্বাভাবিক বায়ুপ্রবাহ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক চক্র বদলে যায়। এটি সাধারণত খরা এবং অতিবৃষ্টির মতো চরম আবহাওয়া তৈরি করে।
লা নিনা (La Niña)
‘লা নিনা’ শব্দের অর্থ "ছোট বালিকা"।
এটি এল নিনোর ঠিক উল্টো। যখন প্রশান্ত মহাসাগরের ওই অঞ্চলের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে যায় (শীতল হয়), তখন তাকে লা নিনা বলে।
এটি সাধারণত এল নিনোর পরিলক্ষিত প্রভাবগুলোর বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখায় (যেমন—অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত বা তীব্র শীত)।
বাংলাদেশে এল নিনোর প্রভাব
বাংলাদেশ মূলত মৌসুমি বায়ুর ওপর নির্ভরশীল দেশ। এল নিনোর প্রভাবে বাংলাদেশের আবহাওয়া চক্রে বেশ কিছু নেতিবাচক পরিবর্তন দেখা দেয়:
স্বল্প বৃষ্টিপাত ও খরা
এল নিনোর বছরগুলোতে বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু দুর্বল থাকে। এর ফলে গড় বৃষ্টিপাত কমে যায় এবং বর্ষাকালে দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা দিতে পারে।
অস্বাভাবিক তাপমাত্রা
এল নিনোর প্রভাবে গ্রীষ্মকালে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বেড়ে যায়। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে যে রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ দেখা গিয়েছিল, তার পেছনে এল নিনোর বড় ভূমিকা ছিল।
শীতের তীব্রতা হ্রাস
এল নিনোর কারণে অনেক সময় শীতকালে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা অনুভূত হয়, অর্থাৎ শীত কম পড়ে।
কৃষিতে ক্ষতি
অপর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে আমন ও আউশ ধানের চাষাবাদ ব্যাহত হয়, যা খাদ্য নিরাপত্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশে এল নিনো ও লা নিনা কবে সক্রিয় হতে পারে?
বর্তমানে ২০২৬ সালের আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী
এল নিনোর বিদায়
গত ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের শুরুর দিকে সক্রিয় থাকা এল নিনোর প্রভাব এখন স্তিমিত হয়ে এসেছে।
লা নিনার আগমন:
বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরে লা নিনা (La Niña) পরিস্থিতি সক্রিয় হতে শুরু করেছে। আবহাওয়া মডেলগুলো অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি থেকে শেষ নাগাদ লা নিনা পুরোপুরি প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশে প্রভাবের সময়
২০২৬-এর বর্ষাকাল
লা নিনা সক্রিয় থাকলে বাংলাদেশে এ বছর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত এবং শক্তিশালী মৌসুমি বায়ুর সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা ঝুঁকি
লা নিনার প্রভাবে হিমালয় অঞ্চল ও বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টি হতে পারে, যা বড় ধরনের বন্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
শীতকাল
২০২৬-এর শেষভাগে এবং ২০২৭-এর শুরুতে লা নিনার প্রভাবে বাংলাদেশে তীব্র শীত অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
সংক্ষেপে
২০২৬ সালে আমরা এল নিনোর প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে লা নিনার প্রভাবে প্রবেশ করছি, যার অর্থ এ বছর বৃষ্টি ও শীত দুটোই বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।