রাতের আকাশে ছুটে চলা উল্কার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখার সুযোগ আসছে। হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও ক্ষুদ্র পাথুরে কণার মধ্য দিয়ে পৃথিবীর অতিক্রমের কারণে সৃষ্টি হওয়া ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টির সক্রিয় সময় চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বুধবার (২১ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকেও দেখা যেতে পারে এই মহাজাগতিক দৃশ্য।
মহাকাশবিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্পেস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, আকাশের পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে। তবে চাঁদের উজ্জ্বল আলো অপেক্ষাকৃত ক্ষীণ উল্কা দেখার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। উল্কাবৃষ্টি দেখতে টেলিস্কোপ বা দূরবীনের প্রয়োজন নেই; পরিষ্কার আকাশ ও কৃত্রিম আলোর প্রভাবমুক্ত জায়গা বেছে নিয়ে খালি চোখেই উপভোগ করা সম্ভব এই দৃশ্য।
কেন হয় ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি?
ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টির উৎস হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও ক্ষুদ্র পাথুরে কণা। প্রতিবছর অক্টোবর মাসে পৃথিবী তার কক্ষপথে চলতে চলতে এসব ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। এ সময় কণাগুলো প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে।
বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর বায়ুর সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে কণাগুলোর চারপাশের গ্যাস উত্তপ্ত ও আয়নিত হয়। এর ফলে রাতের আকাশে উজ্জ্বল আলোর রেখা দেখা যায়, যা সাধারণভাবে ‘খসে পড়া তারা’ নামে পরিচিত।
ওরিওন নক্ষত্রমণ্ডলের দিক থেকে উল্কাগুলো ছুটে আসছে বলে এ উল্কাবৃষ্টির নাম রাখা হয়েছে ওরিওনিড।
হ্যালির ধূমকেতু প্রায় ৭৬ বছর পরপর সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। ২০৬১ সালে ধূমকেতুটিকে আবার পৃথিবী থেকে দেখা যাওয়ার কথা।
কখন দেখা যাবে সবচেয়ে বেশি উল্কা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২১ অক্টোবর মধ্যরাতের পর থেকে ২২ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি দেখার ভালো সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভোরের আগের কয়েক ঘণ্টায় আকাশ অন্ধকার ও পরিষ্কার থাকলে উল্কা দেখার সম্ভাবনা বাড়ে।
তবে চাঁদের উজ্জ্বল উপস্থিতির কারণে অপেক্ষাকৃত অনুজ্জ্বল উল্কাগুলো চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। এ জন্য এমন জায়গা বেছে নেওয়া ভালো, যেখানে কৃত্রিম আলোর প্রভাব কম এবং আকাশের বড় একটি অংশ স্পষ্ট দেখা যায়।
স্পেস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, অনুকূল পরিস্থিতিতে প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে। তবে বাস্তবে কতটি উল্কা দেখা যাবে, তা নির্ভর করবে আকাশের স্বচ্ছতা, আলোর দূষণ ও চাঁদের আলোর ওপর।
বাংলাদেশ থেকে যেভাবে দেখবেন উল্কাবৃষ্টি
ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি দেখতে টেলিস্কোপ কিংবা দূরবীনের প্রয়োজন নেই। খালি চোখেই এ দৃশ্য দেখা সম্ভব। তবে ভালোভাবে উল্কাবৃষ্টি উপভোগ করতে কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করা যেতে পারে।
কৃত্রিম আলো থেকে দূরে থাকুন: শহরের উজ্জ্বল আলো এড়িয়ে খোলা ও অন্ধকার জায়গা বেছে নিন। এতে ক্ষীণ উল্কাও দেখার সম্ভাবনা বাড়বে।
আকাশ পরিষ্কার কি না দেখুন: মেঘমুক্ত আকাশে উল্কা দেখার সুযোগ বেশি থাকে। তাই বাইরে যাওয়ার আগে আবহাওয়ার পরিস্থিতি জেনে নিন।
চোখকে অন্ধকারে অভ্যস্ত হতে দিন: অন্ধকার জায়গায় যাওয়ার পর অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় দিন। এতে অল্প আলোতেও দেখার ক্ষমতা বাড়বে।
আকাশের বিস্তৃত অংশ পর্যবেক্ষণ করুন: আকাশের একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর দিকে তাকিয়ে না থেকে যতটা সম্ভব বড় অংশের দিকে নজর রাখুন।
ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন: উল্কা নিয়মিত বিরতিতে দেখা নাও যেতে পারে। তাই কিছুটা সময় নিয়ে আকাশ পর্যবেক্ষণ করুন।
ঘণ্টায় প্রায় দেড় লাখ মাইল বেগে ছুটে আসে কণা
হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া প্রাচীন ধূলিকণা ও ক্ষুদ্র পাথুরে কণাগুলো ঘণ্টায় প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ মাইল বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। প্রচণ্ড গতিতে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের ফলে কণাগুলোর চারপাশের গ্যাস উত্তপ্ত ও আয়নিত হয়। এর ফলেই রাতের আকাশে তৈরি হয় উজ্জ্বল আলোর রেখা।
প্রকৃতির এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করতে বাংলাদেশের আকাশপ্রেমীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিষ্কার আকাশ, অন্ধকার পরিবেশ এবং ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা।
সূত্র: এপি।