ঈদের পরে বইমেলা আয়োজনের দাবি প্রকাশকদের

আসন্ন 'অমর একুশে বইমেলা ২০২৬' প্রথাগতভাবে ফেব্রুয়ারি মাসে আয়োজন না করে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন দেশের সাধারণ প্রকাশকরা। 

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ২৬২ জন প্রকাশকের পক্ষে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউপিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুফ মহিউদ্দিন।

প্রকাশকরা জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতেই পবিত্র রমজান এবং সামনে ঈদ। এই সময়ে সাধারণ মানুষের বাজেটের সিংহভাগ পোশাক ও খাদ্যদ্রব্যে চলে যায়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় মেলার মূল প্রাণ শিক্ষার্থীরাও ঢাকায় থাকবেন না। রোজা রেখে সারাদিন স্টলে কাজ করা শিক্ষার্থীদের জন্য অমানবিক এবং ধর্মীয় অনুভূতির পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করেন তারা। একই সঙ্গে নির্বাচনের কারণে প্রেস ও স্টল নির্মাণের কারিগর পাওয়া এবং নির্মাণসামগ্রীর আকাশচুম্বী দামকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তারা।

প্রকাশকদের ৪ দফা দাবি:
১. তারিখ পরিবর্তন: ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বইমেলা ঈদুল ফিতরের পর আয়োজনের ঘোষণা দিতে হবে।
২. ভাড়া মওকুফ: প্রকাশকদের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট বিবেচনায় স্টল ভাড়া মওকুফ করতে হবে এবং সরকারি খরচে স্টলের কাঠামো তৈরি করে দিতে হবে।
৩. বই-ভাতা চালু: শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে পহেলা বৈশাখের মতো বিশেষ ‘বই-ভাতা’ বা প্রণোদনা দিতে হবে।
৪. বই ক্রয় নীতি: প্রতিটি মানসম্মত বইয়ের ন্যূনতম ৩০০ কপি সরকারিভাবে ক্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত দেড় বছরে বইয়ের বিক্রি প্রায় ৬০ ভাগ কমে গেছে। এই অবস্থায় লোকসান দিয়ে মেলা করা প্রকাশকদের পক্ষে সম্ভব নয়। তারা এই বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসের হস্তক্ষেপ কামনা করে তাকে স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন।

বাপুস (বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি) এবং সাধারণ প্রকাশকরা এই দাবিতে এখন একতাবদ্ধ। দাবি পূরণ না হলে বইমেলা ২০২৬ বড় ধরনের অংশগ্রহণের সংকটে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।