বালতি ভর্তি ‘সাপ’ নিয়ে মেট্রোয় যাত্রী!

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও, ভিডিওতে দেখা গিয়েছে চলন্ত মেট্রোর মেঝেয় কিলবিল করে বেড়াচ্ছে অগণিত কালো সাপ। এমনই এক ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ চীনে।

সাপ দেখলে ভয় পান না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। তার ওপর চলন্ত মেট্রোর ভেতর যদি একসঙ্গে অসংখ্য সাপের মতো প্রাণী কিলবিল করতে দেখা যায়, তাহলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক।

ভিডিওতে দেখা যায়, যাত্রীতে ঠাসা একটি মেট্রোর কামরা। কেউ আসনে বসে আছেন, কেউ দাঁড়িয়ে। এর মধ্যেই কামরার মেঝেতে অসংখ্য কালো, লম্বাটে প্রাণী কিলবিল করছে।

এ দৃশ্য দেখে এক তরুণীকে দ্রুত সরে যেতে দেখা যায়। অন্য এক যাত্রীও প্রাণীগুলোর পাশ দিয়ে অত্যন্ত সতর্কভাবে পা ফেলছিলেন, যাতে সেগুলোর ওপর পা না পড়ে।

তবে পরিস্থিতির সবচেয়ে অদ্ভুত দিক ছিল অন্য জায়গায়। একজন বয়স্ক যাত্রীকে নির্বিকারভাবে ওই প্রাণীগুলো হাত দিয়ে ধরে একটি বালতিতে তুলতে দেখা যায়। অন্য কয়েকজন যাত্রীও তাকে কাজে সহায়তা করেন। তাদের আচরণ দেখে প্রথমে মনে হতে পারে, প্রাণীগুলো আসলে সাপ নয়।

ভিডিওটির ক্যাপশনেই অবশ্য মিলেছে ‘সর্পরহস্যের’ সমাধান। জানা যায়, মেট্রোর মেঝেতে ছড়িয়ে পড়া প্রাণীগুলো আসলে সাপ নয়, ধানখেতে পাওয়া এক ধরনের নিরীহ বান মাছ। এগুলো বিষধর বা বিষাক্ত নয় এবং খাবার হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।

জানা গেছে, ওই বৃদ্ধ তিন বালতি বান মাছ নিয়ে মেট্রোতে উঠেছিলেন। যাত্রাপথে অসাবধানতাবশত একটি বালতি উল্টে যায়। আর সেখান থেকেই মাছগুলো মেট্রোর কামরার মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই যাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয় বিভ্রান্তি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনে মেট্রোতে জীবন্ত হাঁস-মুরগি এবং কুকুর-বিড়ালের মতো পোষা প্রাণী নিয়ে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে খাবার হিসেবে ব্যবহৃত জীবন্ত জলজ প্রাণী মুখবন্ধ পাত্রে বহন করার অনুমতি রয়েছে। সম্ভবত ওই বৃদ্ধের মাছভর্তি পাত্রের মুখ কোনোভাবে খুলে যাওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা হাজার হাজার বার দেখা হয়েছে। অনেকেই ঘটনাটিকে মজার বলে মন্তব্য করেছেন। আবার কেউ কেউ জানিয়েছেন, মেট্রোর ভেতর এমন দৃশ্য দেখলে আসল ঘটনা বুঝে ওঠার আগেই তাঁরা আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে যেতেন।

তবে সাপ ভেবে আতঙ্ক ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত জানা গেল, মেট্রোয় ‘সাপের হানা’ নয়, ঘটনার নেপথ্যে ছিল এক বালতি বান মাছ।