বছরের প্রথম দিনে নতুন পাঠ্যবই পেল প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা, তবে বই উৎসব হয়নি

নতুন বছরের প্রথম দিনেই সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার আবুল বাশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

উপদেষ্টা বলেন, এই বইগুলোর মান আগের তুলনায় অনেক ভালো এবং এটি বর্তমান সরকারের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তিনি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য একটি অভিভাবক নির্দেশিকা বই তৈরি করা হচ্ছে। এতে শিশুদের সুস্থ ও সুন্দরভাবে বড় হওয়ার জন্য করণীয় বিষয়গুলো সহজ ভাষায় ও চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

ডা. বিধান রঞ্জন রায় আরও বলেন, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার বিকল্প নেই। প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য শিশুদের সাক্ষর করে তোলা। শিশুদের মাতৃভাষায় সঠিকভাবে পড়তে শেখানো হলে তারা পরবর্তীতে আরও জ্ঞান অর্জনে সক্ষম হবে। সকলকে সঙ্গে নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে উচ্চতর শিক্ষায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বই বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্ত মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আব্দুল লতিফ।

এরপর উপদেষ্টা ঢাকার ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনস্থ নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ে বই বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে তিনি বলেন, সম্প্রতি কিছু দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে, যা জাতির জন্য কলঙ্কজনক। সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হয়েছে, একজন সংখ্যালঘু নাগরিকও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এসব ঘটনায় রুখে দাঁড়াচ্ছেন।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ কপি পাঠ্যবই মুদ্রণ, বাঁধাই ও বিতরণের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। ফলে প্রাথমিক স্তরে শতভাগ বই সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

মাধ্যমিক, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরের পাঠ্যপুস্তকের মুদ্রণ ও সরবরাহ কার্যক্রম এখনও চলমান। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ১৮ কোটি ৩২ লাখ কপি বইয়ের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬৬ শতাংশ উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছেছে। এনসিটিবির সদস্য অধ্যাপক রিয়াদ চৌধুরী বলেন, শতভাগ শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৬ শতাংশ বই বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে, বাকি ৪৪ শতাংশ দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হবে।

এবার কোনো বই উৎসব বা আনুষ্ঠানিকতা হয়নি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের কারণে ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত সকল অনুষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।