দেশের ভবিষ্যৎ কল্যাণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার পবিত্র দায়িত্ব পালনে সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত ‘বিজিবির বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজ (বিজিটিসিএন্ডসি)’-এর ‘বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে’ বিজিবির ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সুপরিকল্পিতভাবে সমন্বিত রূপে তাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এই বাহিনী থেকে ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন সদস্য ৬১টি উপজেলায় নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবেন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুসংহত ও কার্যকর হবে।’
এসময় তিনি নতুন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সকল বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের যে কোনো ধরনের অনৈতিক, পক্ষপাতমূলক বা দায়িত্ব বহির্ভূত আচরণ ও কর্মকাণ্ড যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত বা বিঘ্নিত করতে পারে, তা থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকার জন্য আমি আপনাদেরকে সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিচ্ছি। দেশের ভবিষ্যৎ কল্যাণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার পবিত্র দায়িত্ব সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার করতে হবে।’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এই বাহিনীর ভাবমূর্তি ও গৌরব রক্ষায় তোমরা প্রয়োজনে জীবন দেব, তবুও দেশের এক ইঞ্চি মাটিও হাতছাড়া হতে দিবে না। তোমরাই হবে আমাদের সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক।’
তিনি নারী সদস্যদের প্রতি বলেন, ‘প্রিয় নবীন নারী সৈনিকবৃন্দ, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মহান দায়িত্ব পালনে পুরুষের পাশাপাশি নারীরও সমান ভূমিকা রয়েছে। মনে রেখো, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মহীয়সী নারীদের অবদান ও আত্মত্যাগ অবিস্মরণীয়। আজ নারীরা বিভিন্ন অঙ্গনে যথাযথ যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা প্রমাণ রেখে চলেছে। আজ তোমরা দেশ মাতৃকার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দীপ্ত শপথ নিয়ে সৈনিক জীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তোমরা বিজিবির সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় আরও গতিশীল ভূমিকা রাখবে এবং বাহিনীর সুনাম ও স্বীকৃতি বৃদ্ধি সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। তোমরা অন্যান্য বাহিনীর নারী সৈনিকদের মতো কর্মক্ষেত্রে তোমাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রমাণে সমভাবে সমর্থ হবে।’
সকল বিজিবি সদস্যদের দুর্নীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলতে চাই, দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। দুর্নীতি শুধু অর্থনীতি ক্ষতি করে না, এটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের বিশ্বাস ভেঙ্গে দেয়। কোনো বিজিবি সদস্য যদি ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষা বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য অংশগ্রহণের মতো কাজ করে, তবে সে শুধু আইন ভাঙে না, রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও দুর্বল করে দেয়। বিজিবি সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয়। কোনো স্বার্থ গোষ্ঠীর রক্ষক নয়।’
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং বিজিটিসিএন্ডসির কমান্ড্যান্ট উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।