বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনাগুলোর অধিকাংশকেই ‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতা’ হিসেবে দেখছে না অন্তর্বর্তী সরকার। পুলিশের নথি বিশ্লেষণ করে জানানো হয়েছে, এসব ঘটনার বড় একটি অংশ ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং সাধারণ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ফল।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে সংখ্যালঘু-সংশ্লিষ্ট মোট ৬৪৫টি ঘটনার তথ্য পুলিশের নথিতে পাওয়া গেছে। তথ্য-প্রমাণ ও নিবিড় বিশ্লেষণের পর দেখা গেছে, এর মধ্যে মাত্র ৭১টি ঘটনায় সাম্প্রদায়িক যোগসূত্র বা ধর্মীয় বিদ্বেষের উপাদান রয়েছে। বাকি ৫৭৪টি ঘটনাকে অ-সাম্প্রদায়িক বা সাধারণ অপরাধ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে সরকার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক হিসেবে চিহ্নিত ৭১টি ঘটনার মধ্যে মূলত ধর্মীয় উপাসনালয় ও প্রতিমা ভাঙচুর বা অবমাননার ঘটনা রয়েছে। অন্যদিকে, বাকি ৫৭৪টি ঘটনার কারণ হিসেবে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ, জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, চুরি, যৌন সহিংসতা এবং পূর্ববর্তী ব্যক্তিগত শত্রুতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, আক্রান্ত ব্যক্তি সংখ্যালঘু হলেও ঘটনার পেছনে ধর্মীয় কোনো কারণ ছিল না।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে বিচার করা ঠিক হবে না। সরকার সকল নাগরিকের-মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রতিদিন উন্নতির দিকে যাচ্ছে এবং যে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।