প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ২০২৬ সালের নির্বাচন হবে এমন একটি নির্বাচন যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য একটি আদর্শ বা রোল মডেল হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর আয়োজিত গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার ‘বডি ক্যামেরা’ ও ‘সিসি ক্যামেরা’ ব্যবহার করা হবে এবং কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সবকিছু সরাসরি মনিটরিং করা হবে। ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সভায় জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের ৬২.৪ শতাংশ এবং গোলাবারুদের ৫২ শতাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, এবারের নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে সরাসরি কাজ করবেন এবং প্রয়োজন হলে তারা ভোটকেন্দ্রের ভেতরেও প্রবেশ করতে পারবেন। এছাড়া প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র আনসার সদস্যরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান করবেন।
নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানান, নিবন্ধিত ৫৯টি দলের মধ্যে ৫১টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। বুধবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৩০০ সদস্যের প্রতিনিধি দলসহ মোট ২৬টি দেশের পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকবেন।
তথ্যপ্রযুক্তি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের দিন দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা হবে। সাইবার স্পেসে গুজব ও অপতথ্য রোধে কঠোর নজরদারি চালানো হবে এবং গণমাধ্যমগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সভায় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর তিন প্রধানসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা সবাইকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন উপহার দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।