সারাদেশে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে জনমতের এক অভূতপূর্ব জোয়ার পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, দেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমেই স্বৈরাচার ও অন্যায়ের পথ বন্ধ হবে এবং নাগরিক অধিকার সুসংহত হবে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের বাটুলিয়া এলাকায় অবস্থিত ‘বুচাই পাগলার মাজার’ পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
প্রেস সচিব বলেন, ‘মানুষ জানে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে দেশে আর স্বৈরাচার, অনাচার ও অত্যাচার ফিরে আসবে না। এতে নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং ন্যায়ভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা মনে করি, সারা বাংলাদেশে হ্যাঁ ভোটের জন্য একটা জোয়ার তৈরি হয়েছে। মানুষ এখন সচেতন। তারা জানে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে ব্যাংকে রাখা টাকা নিরাপদ থাকবে এবং পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।’
মাজারে হামলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, “বাংলাদেশ অলি-আউলিয়াদের দেশ। ইসলাম এই ভূখণ্ডে তাদের মাধ্যমেই এসেছে। মাজার বা ধর্মীয় উপাসনালয়ে আঘাত বা ভাঙচুর করা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য। কারো পছন্দ না হলে তিনি সেখানে যাবেন না, কিন্তু ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।” বুচাই পাগলার মাজারকে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন।
নির্বাচনি প্রস্তুতি নিয়ে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন নিরলস কাজ করছে। ভোট গ্রহণে কোনো সমস্যা হবে না, তবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভোট গণনায় কিছুটা সময় লাগতে পারে। তিনি জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর যেকোনো হামলা নিন্দনীয়। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকার, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ নাগরিক- সবার দায়িত্ব। এবারের নির্বাচন সাংবাদিকরা ভয়হীনভাবে এবং নিরপেক্ষভাবে কাভার করতে পারবেন।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান সালমান হাবিব এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিদওয়ান আহমেদ রাফি।