‘সগলির কাছে শুনি এবার ভোট বলে দু'ড্যা হবি। একডা হবি মার্কাত আর একডা যেন কিব্যার ভোট। সেড্যা তো হামরা ভাল করে জানিউ ন্যা। আগে ভোটের দিন আসুক, তকন ভাব্যে দেকমো নি কি দেওয়া লাগবি। একন ওল্লা কিছু জানি ন্যা বা’। গণভোট নিয়ে এভাবেই নিজের অভিব্যক্তি জানাচ্ছিলেন বগুড়ার রাজারহাট ইউনিয়নের কৃষক রেজাউল করিম।
করিমের সাথে যখন কথা হয়, তখন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তিনি তার উচ্ছ্বাসের কথা বললেও গণভোট কী নিয়ে, এই ভোট দিলে হবে, কেন এই ভোট দেওয়া জরুরি সে সব সম্পর্কে একেবারেই অবগত নন।
তিনি জানান টিভিতে গণভোট নিয়ে প্রচার দেখে তিনি জেনেছেন, এবার নির্বাচনের দিন আরো একটা বেশি ভোট দিতে হবে। এর বাইরে আর তেমন কিছুই জানেন না।
আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। এই গণভোটে সাধারণ মানুষের কাছে প্রচার করতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগও লক্ষ্য করা গেছে।
রেডিও-টেলিভিশন তো আছেই, সেই সাথে সারাদেশের স্কুল কলেজ, সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সড়ক মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে বিশাল বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দিতে ইমামদেরও প্রচারণা করতে দেখা গেছে।
ঐকমত্য কমিশন দফায় দফায় আলোচনার পর যে জুলাই সনদ তৈরি করেছে, সেখানে ৪৭টি সাংবিধানিক সংস্কার ও ৩৭টি আইন ও বিধি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হবে যদি গণভোটে 'হ্যাঁ' জয় পায়। যে কারণে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপকভাবে প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। কিন্তু এই প্রচারণায়, মাত্র ১০ থেকে ১২টি বিষয়কেই যুক্ত করা হয়েছে। যে কারণে দেশের সাধারণ মানুষদের অনেকের কাছেই বিষয়গুলো স্পষ্ট নয়।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ বলেছেন, একেবারে খুব প্রয়োজনীয় এবং যেগুলো নাগরিক জীবনকে প্রভাবিত করে এবং নাগরিকরাও সহজে যেগুলো বুঝতে পারেন সেগুলোই যুক্ত করা হয়েছে সরকারি প্রচারণায়।
তবে তিনি এটিও বলেছেন যে, লিফলেট বা প্রচার সামগ্রীতে যেগুলো দেওয়া হয়েছে এর বাইরেও অনেক বিষয় সরাসরি প্রচারণায় ও আলোচনায় তুলে ধরা হয়েছে। বিস্তারিত ওয়েবসাইটেও রয়েছে।