গণভোটের প্রচারণা চালাতে পারবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা

গণভোটে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ এর পক্ষে প্রচারণা না চালাতে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আইন অনুযায়ী গণভোটের পক্ষ নেওয়া যে ‘দণ্ডনীয় অপরাধ’ তা তুলে ধরে জনমতকে প্রভাবিত না করতে বলেছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে সব রিটার্নিং কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে হ্যাঁ– এর পক্ষে সরকারের তরফে প্রচার চালানো নিয়ে বির্তকের মধ্যে এমন নির্দেশনা দিল ভোট আয়োজনকারী নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোট হবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতিমধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টাসহ সরকারের উপদেষ্টাদের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানও প্রচারে অংশ নিচ্ছে। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সহকারীরা দেশে দেশজুড়ে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্পষ্ট বলে দিয়েছে, ২০২৫ সালের গণভোট অধ্যাদেশ এবং ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’–এর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণকে কোনোভাবে আহ্বান জানাতে পারবেন না। তবে গণভোট বিষয়ে জনগণকে অবহিত ও সচেতন করতে পারবেন।

ইসির চিঠিতে বলা হয়, ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৮৬ এর বিধানাবলীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ কর জানানো যাচ্ছে- প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি গণভোট বিষয়ে জনগণকে অবহিত ও সচেতন করতে পারবেন; তবে তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে বা ‘না’ এর পক্ষে ভোট প্রদানের জন্য জনগণকে কোনোভাবে আহবান জানাতে পারবেন না। কেননা এ ধরনের কার্যক্রম গণভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে, যা গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৮৬ অনুযায়ী একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।’

প্রসঙ্গত, গণভোট অধ্যাদেশের ২১ ধারায় বলা আছে, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান মোতাবেক যেসব কার্য অপরাধ ও নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসাবে গণ্য, একই ধরনের কার্য গণভোটের ক্ষেত্রেও যতদূর প্রযোজ্য, অপরাধ ও আচরণবিধির লঙ্ঘন বলিয়া গণ্য হইবে, এবং এরূপ ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান প্রয়োগ করিয়া এখতিয়ারসম্পন্ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উক্ত অপরাধের বিচার এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।’

অন্যদিকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৮৬ ধারায় বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি কোনোভাবে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তাঁর সরকারি পদমর্যাদার অপব্যবহার করলে তিনি সর্বোচ্চ পাঁচ বছর ও সর্বনিম্ন এক বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবেন।