ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ গ্রানাডার সঙ্গে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে একটি যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে এই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
বাংলাদেশ ও গ্রানাডা উভয় দেশই ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করেছিল। পরবর্তী কয়েক দশকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও আদান-প্রদান থাকলেও এতদিন কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল না।
বৃহস্পতিবার লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম ও গ্রানাডার হাইকমিশনার রাচের ক্রোনি নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই ঐতিহাসিক যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম বলেন, ‘এই কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সম্পর্কের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় মুহূর্ত। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়া ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের মধ্যে একটি নতুন সেতুবন্ধন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ন্যায়সংগত বৈশ্বিক ব্যবস্থার জন্য অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করেই এই সম্পর্কের ভিত গড়ে উঠছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে উভয় দেশের সার্বভৌমত্বের মূল্য এবং জাতি গঠনের লড়াইয়ের ঐতিহাসিক মিল রয়েছে। এই সম্পর্কের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুই দেশের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো হবে।
আবিদা ইসলাম আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের ওষুধ ও বস্ত্রখাতের বৈশ্বিক সক্ষমতা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে গ্রানাডার কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশ বাণিজ্য ও শিল্প সম্প্রসারণে একযোগে কাজ করবে।
অন্যদিকে, গ্রানাডার হাইকমিশনার রাচের ক্রোনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও গ্রানাডা উভয়ই কমনওয়েলথের সদস্য এবং গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও আইনের শাসনের অভিন্ন নীতিতে বিশ্বাসী।’
তিনি আরও বলেন, গ্লোবাল সাউথের দেশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহনশীলতার মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশ এখন থেকে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে পারবে।
এই আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু কর্মকাণ্ডসহ সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা। একইসঙ্গে জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পৃক্ততা আরও গভীর হবে।