‘প্রধান বিচারপতিও’ নতুন এমপিদের শপথ পড়াতে পারবেন: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

নতুন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন, এ আলোচনা চলার মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ বলেছেন, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার না থাকলে ‘প্রধান বিচারপতি’ বা প্রধান নির্বাচন কমিশনারও সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাতে পারবেন। আর মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিষয়ে তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতিই তাদের শপথ পড়াবেন।

শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ কথা বলেন।

বৃহ্স্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফলাফল ঘোষণায় বিএনপি ২০৯ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে তাদের এক সময়কার মিত্র জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার রাতে নির্বাচিত ২৯৭ জনের গেজেট প্রকাশ করেছেন।

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি মামলার আসামি হয়ে বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।

তার সঙ্গে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব নেন শামসুল হক টুকু। তিনি এখন মামলার আসামি হয়ে কারাগারে রয়েছেন। ফলে, নতুন সংসদ সদস্যদের কে শপথ পড়াবেন, তা নিয়ে এক ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “গেজেট নোটিফিকেশন হয়ে গেছে। আইন অনুযায়ী তিন দিন সময়ের মধ্যে তাদের শপথ গ্রহণ হয়। সংসদ সদস্য হিসেবে, সেটি এই তিন দিন সময় আগামীকাল থেকে শুরু করে ১৭ তারিখের মধ্যে শপথ গ্রহণ হবে।”

শপথের পরের প্রক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল তাদের নিজস্ব সংসদ সদস্যদের নেতা নির্বাচন করবেন। যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের নেতা নির্বাচিত হবেন, তিনি রাষ্ট্রপতিকে জানাবেন যে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের নেতা।

“মহামান্য রাষ্ট্রপতি তখন তাকে নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের জন্য অফার করবেন বা নিয়োগ দান করবেন। এর পরে একটা সুবিধাজনক সময় নির্ধারণ করে সে সময় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আমরা আশা করছি তিন দিন বা ম্যাক্সিমাম চার দিনের মধ্যে শপথ হয়ে যাবে।”

শপথের জন্য প্রস্তুতি আছে কি না, জানতে চাইলে শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, “আগামীকাল বা পরশু সেটাও আমাদের প্রস্তুতি আছে, আবার যদি বলা হয়, না আমরা, ওই তিন দিন পর হবে সেটারও প্রস্তুতি আছে।”

সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন তা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা দেখেন সংসদ সচিবালয়।”

নতুন সংসদ সদস্যদের শপথের বিষয়ে এর আগে নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “১৪৮ এর ৩ ধারায় বলা হয়েছে, স্পিকার অথবা ডেপুটি স্পিকার যদি না পড়ান, বা তারা পড়াতে অসমর্থ হন বা না থাকেন, তাহলে তিন দিন পরেও চতুর্থ দিন থেকে পরবর্তী দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পাঠ করাবেন।”

তার আগে ৫ ফেব্রুয়ারি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে নতুন সংসদ সদস্যদের ‘রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি’ দ্বারা শপথ পড়ানোর কথা বলেছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, নির্বাচিত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে কেউ শপথ না পড়ালে সেক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “আমি যেটা জানতে পেরেছি ইনফরমাল, সেজন্য এটা আমি বলতে চাইছি না।

“এখানে নানান রকমের অপশন আছে, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার বা তাদের মনোনীত কেউ দিতে পারেন। তারা যদি কোনো মনোনয়ন না দিতে পারেন, তাহলে সরকার থেকে আর কাউকে মনোনয়নের ব্যবস্থা করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি অথবা প্রধান নির্বাচন কমিশনার, তিনিও এই শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে পারেন বা শপথ পাঠ করাতে পারেন।”

মন্ত্রিসভার সদস্যদের কে শপথ পাঠ করাবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পড়ান, তিনি মন্ত্রিপরিষদের শপথ পড়াবেন।”

কতজন অতিথি শপথ অনুষ্ঠানে থাকবেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কম-বেশি ১ হাজার হবে।”