আগামী ২ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে সারাদেশে ৫৭০টি কমিটি গঠন করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সূত্রে এই তথ্য জানা যায়।
ইসির এক কর্মকর্তা জানান, সারাদেশে জাতীয় ভোটার দিবস আট বিভাগে বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারদের সভাপতি করে ৮টি কমিটি, ইসির প্রশাসনিক অঞ্চল কুমিল্লা ও ফরিদপুরে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে সভাপতি করে ২টি কমিটি, জেলা পর্যায়ে ডিসিদের প্রধান করে ৬৪টি কমিটি এবং উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওকে সভাপতি করে ৪৯৫টি উপজেলায় কমিটি করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কমিটিও করা হয়েছে একটি। এসকল কমিটি নিয়ে জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপনের জন্য সারাদেশে মোট ৫৭০টি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জাতীয় ভোটার দিবস ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। আজকালের মধ্যে ভোটার দিবসের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।
এ বিষয়ে ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, ‘অন্যান্য বারের মতো এবারও আগামী ২ মার্চ যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় ভোটার দিবস পালন করা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’
ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত ভোটা দিবস আয়োজন সংক্রান্ত সভার এক কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, অষ্টম জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী নির্বাচন ভবন, ইটিআই ভবন এবং বাগানসহ ফোয়ারা চত্বরে বর্ণিল আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি কাজের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে ১০টি উপকমিটিও গঠন করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ‘৮ম জাতীয় ভোটার দিবস’ যথাযথভাবে উদ্যাপনের জন্য কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে। ইসি সচিবালয়ে সিনিয়র সচিবকে সভাপতি করে ৩৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি দিবসের কর্মসূচির কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে সার্বিক তত্ত্বাবধান করবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ, দিবসের প্রতিপাদ্য (থিম) নির্ধারণ, মাঠ পর্যায়ের কর্মসূচি বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান ও তদারকি করবে। এছাড়া দিবসের ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট, পোস্টার ইত্যাদির মাধ্যমে প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ, উদ্যাপনের ব্যয় নির্বাহের জন্য সম্ভাব্য ব্যয়-প্রাক্কলন তৈরি করাসহ বিভিন্ন সাব-কমিটি গঠন এবং যেকোনো কর্মকর্তাকে সদস্য হিসেবে কো-অপ্ট করার কাজ করবে এ কমিটি।
নির্বাচন কমিশন আরো জানায়, বিভাগ পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারকে সভাপতি করে ২৬ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা। ফরিদপুর ও কুমিল্লা অঞ্চলের জন্য আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে সভাপতি করে ২৪ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন এসব অঞ্চলের সদর জেলার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা।
জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসককে (ডিসি) সভাপতি করে ২৯ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। এতে সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি করে ২৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা।
ভোটার দিবসে যে দায়িত্ব পালন করবে কমিটি
দিবসটি উদযাপনের কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন; সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সমন্বয় সাধন; কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরতে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন; ব্যানার, ফেস্টুন ও লিফলেট ইত্যাদি দর্শনীয় স্থানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা; সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তার র্যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা; সংশ্লিষ্টদের উদ্বুদ্ধকরণ, গণসচেতনতা সৃষ্টি ও প্রচার কাজে মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়কে সম্পৃক্ত করা; এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সময়ে সময়ে প্রদত্ত সংশ্লিষ্ট বিশেষ নির্দেশাবলী যথাযথভাবে প্রতিপালন করা।
২০১৩ সালে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নির্বাচন বিষয়ক সংগঠন ফেমবোসার চতুর্থ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সদস্য দেশগুলো জাতীয়ভাবে ভোটার দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এরপরই মূলত জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপনের চিন্তাভাবনা শুরু হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জাতীয়ভাবে ভোটার দিবস উদযাপনের একটি প্রস্তাব কমিশন সভায় উপস্থাপন করে। কমিশন প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করে এবং নীতিগতভাবে জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।
২০১৯ সালে ১ মার্চ ভোটার দিবস পালন করা হলেও ১ মার্চ ‘বীমা দিবস’ থাকায় ২০২০ সালে ভোটার দিবসকে ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস ঘোষণা করে ২ মার্চকে জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৬০টি। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী দেশে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন।