হয়রানিমূলক আরও ১২০২ মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা আরও ১ হাজার ২০২টি হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক খুদেবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের মাত্র ১০ দিনের মাথায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৬টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আজ আরও ১ হাজার ২০২টি মামলা প্রত্যাহারের সবুজ সংকেত দেওয়া হলো।

আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিগত সরকারের সময়কার প্রায় ২৩ হাজার ৮৬৫টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছিল। এসব মামলার বেশিরভাগই বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম ও গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা হয়েছিল। 

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বিশাল সংখ্যক মামলা প্রত্যাহারের ফলে প্রায় ৫ লাখ মানুষ রাজনৈতিক হয়রানি থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি পাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত হওয়া রাজনৈতিক মামলাগুলো পর্যালোচনার জন্য গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর দুটি কমিটি গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি বিভিন্ন সময়ে ৩৯টি সভার মাধ্যমে আবেদনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এসব মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ চূড়ান্ত করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের এই আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানেও চলমান রয়েছে।