দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন পদত্যাগ করেছেন। তার সঙ্গে সংস্থাটির অন্য দুই কমিশনার- মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে তারা সচিবালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদত্যাগপত্র জমা দেন।
২০১৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আবদুল মোমেনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। সে সময় তিনি যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবদুল মোমেন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব হন। পরে তাকে জ্যেষ্ঠ সচিবের পদমর্যাদা দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর তাকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই দিনে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির দুই কমিশনারও নিয়োগ দেওয়া হয়।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে আবদুল মোমেনের কিছু বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করে। এক বক্তব্যে তিনি দুর্নীতিবাজদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান।
আবদুল মোমেন বলেছিলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসে জড়িত ব্যক্তিদের নির্বাচিত করলে দুর্নীতি কমবে না। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত দুর্নীতির অর্থ বিদেশে পাচারে রাজনৈতিক এলিটদের ভূমিকা ছিল।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে। প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় আসা দলটি প্রশাসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনছে। এর মধ্যে কোনো কোনো কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন। এবার নিজ থেকে পদত্যাগ করার তালিকায় যুক্ত হলেন দুদক চেয়ারম্যানসহ প্রতিষ্ঠানটির দুই কমিশনার।