স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশের কোনো থানার ওসি সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফোন করতে পারবে না, চেইন অব কমান্ড মানতে হবে।
তিনি বলেন, পুলিশে চেইন অব কমান্ড থাকতে হবে, এটা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। একজন ওসি সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন করার বিষয়টি এলাও করি না।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বুধবার (৪ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন তিনি। পরে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
একজন ওসি যদি সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখে, সেই ওসির কাছ থেকে জনগণ কী পরিমাণ সহযোগিতা বা প্রত্যাশা করতে পারে? আগের পুলিশকে দেখবো না জনবান্ধব পুলিশকে দেখবো আমরা? সেটা নিশ্চিত করবেন কিনা? জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এখন জনগণের সরকার। একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য বিশ্ব স্বীকৃত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং আগের তার সঙ্গে তুলনা করলে চলবে না।
‘আমি প্রথম দিনেই মন্ত্রণালয়ে যোগদান করার পরে আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে বলেছি যে চেইন অব কমান্ড থাকতে হবে, প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এখন যে প্রশ্ন আপনি তুললেন যে একজন ওসি সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন করবে কিনা? সেটা আমরা এলাও করি নাই।’
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রী যদি প্রয়োজন মনে করে যে কোনো লেভেলে যোগাযোগ করার, সেটা করবে। কিন্তু চেইন অব কমান্ড ব্রেক করে যেন নিম্নপদস্থ কর্মকর্তারা তার উপরস্থ কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে সরাসরি তার উপরস্থ কর্মকর্তাকে যোগাযোগ না করে। স্পষ্ট বলা হয়েছে চেইন অব কমান্ড যেন ব্রেক না করে। সেই সিস্টেমটা আমরা চালু করেছি। ইতোমধ্যে সেটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই ম্যাসেজ আমাদের ডিপার্টমেন্টের সবার কাছে গিয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তবে পুলিশ কমিশনার বা আইজিপি যদি মনে করে যে কোনো লেভেলে উনি যোগাযোগ করবেন সেটা করতে হবে। কাজের প্রয়োজন। এখানে চেইন অব কমান্ডটা বজায় রাখতে হয় নিচের থেকে উপরে। কিন্তু উপর থেকে যেকোন প্রয়োজনে যে কোনো লেভেলে যোগাযোগটা রাখবে।
ঢাকার যানজট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা একটা সেল গঠন করে দিয়েছি। ডিএমপির ক্ষেত্রে ডিএমপি কমিশনারকে আমরা অনুরোধ করেছি আমাদের যে ট্র্যাফিক ডিপার্টমেন্ট আছে তাদের সঙ্গে বসে আমরা কিভাবে যানজট কমাতে পারি। তারা এক সপ্তাহের মধ্যে আমাদের একটা রিপোর্ট দেবে।
উদাহরণ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেমন এখানে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা সীমাহীন হয়ে গেছে। ভিআইপি রোডসহ প্রধান প্রধান সড়ক যেখানে আছে যেখানে নন মোটরাইজ ভেহিকেল চলার কথা না। সেখানে অসংখ্য ব্যাটারিচালিত গাড়ি চলছে। এটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
মন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা বলেছি পরীক্ষামূলকভাবে উত্তরা থেকে এয়ারপোর্ট রোড, ভিআইপি রোড হয়ে সচিবালয় হয়ে এই রোডটা যেটাকে আমরা ভিআইপি রোড হিসেবে জানি। এইখানে প্রাথমিকভাবে আমরা এই চলাচলগুলো সীমিত করবো। নিয়ন্ত্রণ করবো ব্যাটারি। তারপর পরীক্ষামূলকভাবে আরেকটাতে যাবো। এইভাবে আমরা চেষ্টা করবো যানজট নিরসণ করার। এগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আমরা বলেছি একটা রিপোর্ট দিতে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা নিজেরাই ট্রাফিক সিগন্যাল মানি না। বামের লাইনটা উন্মুক্ত থাকার কথা বামের লাইনে গিয়ে গাড়ি বসে থাকি, এগুলোর জন্য আমরা সিটিজেন হিসেবেও দায়ী। আমরা এই সচেতনতাটা আবার সৃষ্টি করতে চাই, যাতে আমরা প্রত্যেকেই ট্রাফিক আইন মেনে চলি এবং ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করি।
পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেকেই বলছেন যে এই পোশাক নতুন পোশাক। এ বিষয়টা পরে। পোশাক পরিবর্তন করলে কি মানসিকতা পরিবর্তন হবে? সেটা পরে। এটা আমরা পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।
এসময় উপস্থিত ছিলেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির, ডিএমপি কমিশনার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. সারওয়ারসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।