এক দশকের অবকাঠামো নির্মাণ ও জটিল কারিগরি সক্ষমতা অর্জনের পর অবশেষে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে পা রাখছে বাংলাদেশ। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং হচ্ছে আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল)।
জ্বালানি লোডিং প্রকল্পের বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হলে আগামী ৩ মাসের মধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং উদ্বোধনী কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে।
ডাক ও টেলিযোগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন ডাক ও টেলিযোগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফালে গ্রসি (ধারণকৃত বক্তব্য), রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।
প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, জ্বালানি লোডিংয়ের পর তিন মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে। শুরুতে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানান, আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুযায়ী নিরাপত্তা ও কারিগরি মানদণ্ড বজায় রাখা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সব বাধা কাটিয়ে রূপপুরের প্রথম ইউনিট এখন জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক মানের কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ এরই মধ্যেই অপারেটিং লাইসেন্স অর্জন করেছেন।
উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর তীরে প্রায় ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।