সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং অনুপ্রবেশ ঠেকানো নিয়ে বড় বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, সীমান্তে বেড়া দেওয়ার বিষয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একইসঙ্গে সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের ‘পুশইন’ বা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও কোরবানির পশুর হাটের নিরাপত্তা বিষয়ক এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া আমাদের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করব। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো সীমান্ত নিরাপদ রাখা এবং কোনোভাবেই যেন পুশইন না হয় সেটি নিশ্চিত করা।’ তিনি আরও জানান, সরকার নিবিড়ভাবে সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে পশুর হাটের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতির কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি পশুর হাটে আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। হাটে চাঁদাবাজি বা অতিরিক্ত ইজারা আদায়ের কোনো অভিযোগ পেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’
পশুর হাটে কোনো ধরনের হয়রানি বা চাঁদাবাজির শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে ১৬৬১৩ নম্বরে হটলাইনে ফোন করে অভিযোগ জানাতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়ক, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে। এছাড়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য পুলিশ সদরদপ্তরে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হবে, যা ঈদের ৭ দিন আগে থেকে শুরু করে ঈদের পর ৭ দিন পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা সচল থাকবে।
এবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ২৬টি পশুর হাট বসবে বলে জানান মন্ত্রী। এর মধ্যে উত্তর সিটিতে ১৫টি এবং দক্ষিণ সিটিতে ১১টি হাট থাকবে। প্রতিটি হাটে সিসিটিভি ক্যামেরা, মোবাইল টহল ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। জাল টাকা শনাক্তকরণে প্রতিটি হাটে বিশেষ বুথ স্থাপনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।