দীর্ঘ ছয় বছর পর দ্বিপক্ষীয় সফরে বাংলাদেশে এসেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর এটিই কোনো তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম ঢাকা সফর।
বিমানবন্দরে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
এ সময় বিমানবন্দরে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। দক্ষিণ কোরিয়া সফর শেষ করে ফিরতি সফরে বাংলাদেশে এলেন হাকান ফিদান।
কূটনৈতিক গুরুত্ব: বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ কোনো শক্তিশালী দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটাই প্রথম ঢাকা সফর। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কূটনৈতিক মহলে এই সফরটি ঘিরে ব্যাপক সাড়া ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
আজ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ আজ শুক্রবার (৫ জুন) বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে:
হাই-প্রোফাইল বৈঠক: আজ সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে এক হাই-প্রোফাইল দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন হাকান ফিদান। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন: বৈঠক শেষে আজ দুপুরের পর তিনি সরাসরি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির পরিদর্শনে যাবেন। সেখানে তিনি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং তুরস্কের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখবেন।
শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ
সফর শেষ করার আগে আগামীকাল শনিবার (৬ জুন) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আঙ্কারায় একটি সফল দ্বিপক্ষীয় সফর করেছিলেন। মূলত সেই সফরের ধারাবাহিকতা ও সম্পর্ক আরও জোরালো করতেই তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ফিরতি সফর।