গত মে মাসে সারা দেশে ৫৭৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৮৬ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৭০৫ জন। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানের স্বাক্ষর করা সড়ক দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ৯ জুন স্বাক্ষরিত এই প্রতিবেদনটি ১১ জুন অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। বিআরটিএ জানিয়েছে, তাদের বিভাগীয় অফিসগুলোর মাধ্যমে সারা দেশের সড়ক দুর্ঘটনার এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে ১৪৮টি দুর্ঘটনায় ১৫২ জন নিহত এবং ২৮০ জন আহত হয়েছেন। এর পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে ১৪৪টি দুর্ঘটনায় ১৩৩ জন নিহত ও ১১৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৭০টি দুর্ঘটনায় ৭৭ জন, রংপুর বিভাগে ৬৫টি দুর্ঘটনায় ৬৬ জন, খুলনা বিভাগে ৫৬টি দুর্ঘটনায় ৫৬ জন, সিলেট বিভাগে ৩৩টি দুর্ঘটনায় ৩৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩১টি দুর্ঘটনায় ৪১ জন এবং বরিশাল বিভাগে ২৮টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন মানুষ মারা গেছেন।
মে মাসের এই দুর্ঘটনাগুলোতে সর্বমোট ৮৯০টি যানবাহন জড়িত ছিল। যানবাহনভিত্তিক নিহতের হিসাবে বরাবরের মতোই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়; যেখানে ১৭৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল এবং এতে ১৫৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর বাইরে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনকারী অন্যান্য যানের মধ্যে ১৮৩টি ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল এবং এতে ৮৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ১২১টি বাস বা মিনিবাস দুর্ঘটনায় ৫৪ জন, ৫৪টি অটোরিকশা দুর্ঘটনায় ৫০ জন এবং ৪০টি ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনায় ৩৪ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
মে মাসের এই সড়ক দুর্ঘটনাগুলোতে ৪৪টি পিকআপ জড়িত থাকায় ৩০ জন, ২৭টি ইজিবাইকের কারণে ১৭ জন, ২৮টি ভ্যানের কারণে ১৬ জন, ৩০টি মোটরকার বা জিপ জড়িত থাকায় ১০ জন, ১৪টি ট্রাক্টরের কারণে ৮ জন, ৪টি অ্যাম্বুলেন্সের কারণে ৬ জন এবং ১৮টি মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। এর বাইরেও অন্যান্য ছোটখাটো ১৪৯টি যানবাহনের দুর্ঘটনায় আরও ১১২ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সব মিলিয়ে মে মাসের এই সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান দেশের যাতায়াত ব্যবস্থার এক করুণ ও সংবেদনশীল চিত্র তুলে ধরে।