আমিরাত শিগগিরই বেনজীরকে ফেরত দেবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার শিগগিরই ফেরত দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২০ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের ১৫ সদস্যকে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে ইউএই ফেডারেল পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে। আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ৩০ দিনের সময় দেওয়া হলেও বাংলাদেশ সরকার মাত্র তিন দিনের মধ্যে ১৪৪ পৃষ্ঠার প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে অনুবাদসহ কূটনৈতিক মাধ্যমে পাঠিয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১২ জুন আবুধাবির ফেডারেল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানায় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চায়। বাংলাদেশ দ্রুততার সঙ্গে তা সম্পন্ন করেছে। বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের ‘শাস্তি ও পুরস্কার’ নীতির আওতায় দায়িত্বশীল পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে, আর গাফিলতি বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি রাজধানীর অপরাধ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, রাতারাতি কোনো এলাকা অপরাধমুক্ত করা সম্ভব নয়, তবে ধাপে ধাপে অপরাধী চক্রগুলোকে নির্মূলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গাজীপুরের সাবেক কমিশনার ড. নাজমুল করিম খানের বরখাস্তের বিষয়টি প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চট্টগ্রামে জাতীয় ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনায় তদন্ত শেষে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কনস্টেবল, এসআই ও ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যু দমনে কোস্টগার্ড দায়িত্ব পালন করছে বলে জানান তিনি। মংলায় সাম্প্রতিক উত্তেজনার বিষয়ে বলেন, পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আগামী ২৩ জুন একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

এদিন জনসেবামূলক কাজ, সাহসিকতা ও গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চারটি ঘটনায় পুলিশের ১৫ সদস্যকে সম্মাননা ও আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন ট্রাফিক কনস্টেবল মো. কামরুজ্জামান, যিনি কুড়িল বিশ্বরোডে জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজ হাতে ড্রেন পরিষ্কার করেছিলেন।

এছাড়া অস্ত্রধারী ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার, আলোচিত মা-মেয়ে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন এবং ডাকাতি ও গণধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তারে ভূমিকা রাখা পুলিশ সদস্যরাও পুরস্কৃত হয়েছেন।