পুরোনো মোটরযান বা গাড়ি বিক্রির পর নতুন ক্রেতাদের মালিকানা পরিবর্তন না করার প্রবণতা দূর করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতারা নাম পরিবর্তন না করেই বছরের পর বছর যানবাহন ব্যবহার করায় বিপাকে পড়ছেন সাবেক মালিকেরা। বিভিন্ন কর, সারচার্জসহ নানা ধরনের আর্থিক দায় আগের মালিকের ঘাড়ে গিয়ে পড়ার এই সমস্যা সমাধানে মালিকানা পরিবর্তন প্রক্রিয়া এখন অত্যন্ত সহজ করেছে সংস্থাটি।
বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের জন্য প্রথমে অনলাইনে (https://bsp.brta.gov.bd/) আবেদন দাখিল করতে হবে। এরপর বিক্রেতার উপস্থিতিতে হ্যান্ড-হেল্ড ডিভাইসের মাধ্যমে আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক যাচাই করা হবে এবং একই দিনে মালিকানা পরিবর্তন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই দিনে ক্রেতা অর্থাৎ নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য তার বায়োমেট্রিক প্রদান করতে পারছেন।
এদিকে মোটরযানের মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে বুধবার (২৪ জুন) একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিআরটিএ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোটরযান বিক্রির পর নতুন ক্রেতারা মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করায় যানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর ও আর্থিক দায় আগের মালিকের নামে থেকে যাচ্ছে।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ২১ ধারা অনুসারে মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই নিয়ম অনুসরণ না করায় যানবাহনের অগ্রিম আয়কর, বিশেষ ক্ষেত্রে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর এবং পরিবেশ সারচার্জের মতো বড় আর্থিক দায়ভার বিক্রেতার ওপর বর্তাচ্ছে। এই সমস্যা এড়াতে বিআরটিএ কঠোরভাবে সতর্ক করে জানিয়েছে, যানবাহন বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। আইন অনুযায়ী যথাযথভাবে মালিকানা পরিবর্তন করা না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।