প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন দেশের জন্য গৌরবের বিষয়। এ উপলক্ষে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ সব সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯২১ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা রেখে আসছে। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান এবং সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনসহ দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে জীবন উৎসর্গ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ত্যাগ ও সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় অর্জিত গণতন্ত্রকে এখন সুসংহত করার সময় এসেছে। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল এন্টারপ্রেনারশিপ, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি ও ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষাকে শুধু সার্টিফিকেটনির্ভর না রেখে ব্যবহারিক ও দক্ষতাভিত্তিক করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণার সংস্কৃতি জোরদার এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। দেশের উন্নয়নেও তাঁদের আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীলতাকে শিক্ষাব্যবস্থার অংশ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতার জন্য শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি একটি তৃতীয় ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্ব দিতে হবে।
শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।