রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক ও নদীপথকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ আরও জোরদার হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ঢাকার ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণের অগ্রগতি এবং রাজধানী ঘিরে নদীপথের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে বুধবার, (জুলাই ১) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, বৈঠকে রাজধানীর যানজট কমাতে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য সুফল বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে, গাবতলী থেকে বাবুবাজার এবং পোস্তাগোলা থেকে ডেমরা পর্যন্ত বিস্তৃত ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ ইনার সার্কুলার রিং রোড প্রকল্পের রায়েরবাজার, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর অংশে নির্মাণকাজ চলছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
বৈঠকে জানানো হয়, রিং রোডটি সম্পূর্ণ চালু হলে ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-মাওয়া ও ঢাকা-চট্টগ্রামমুখী অনেক যানবাহনকে রাজধানীর অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবহার করতে হবে না। ফলে নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং যানজট নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ ছাড়া রাজধানী ঘিরে প্রায় ১১০ কিলোমিটার নদীপথকে যাত্রী পরিবহনের আওতায় আনার পরিকল্পনাও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, বৃত্তাকার এই নৌপথ কার্যকরভাবে চালু করা গেলে নগরবাসী সহজেই এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করতে পারবেন। তাদের মতে, ইলেকট্রিকচালিত নৌযান ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশদূষণ কমবে, জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং যাতায়াতের সময়ও হ্রাস পাবে।
বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, সড়ক পরিবহনসচিব জিয়াউল হক, নৌপরিবহনসচিব মো. জাকারিয়া, রেলপথসচিব ফাহমিদুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী জহিরুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. বোরহান উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিঠুন চন্দ্র শীল এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খান মাহমুদ আমানত ও অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।