নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে দক্ষতাভিত্তিক অভিবাসন সম্প্রসারণ, নৈতিক নিয়োগ নিশ্চিত করা, অভিবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা, নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশে ফিরে আসা অভিবাসীদের টেকসই পুনর্বাসনকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
রোববার (৫ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর চিফ অব মিশন লরা নিকোল টম-বন্ডে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে বিদেশগামী কর্মীদের ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, তাদের অধিকার ও কল্যাণ রক্ষা এবং নতুন নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশে ফিরে আসা অভিবাসীদের পুনর্বাসন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও আধুনিক করতে আইওএমের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী ভবিষ্যতেও সংস্থাটির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, অভিবাসন খাতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জবাবে আইওএমের চিফ অব মিশন লরা নিকোল টম-বন্ডে অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে আইওএমের পূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন। পাশাপাশি নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন, অভিবাসীদের সুরক্ষা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে বাংলাদেশ ও আইওএমের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও আইওএমের বিদ্যমান অংশীদারিত্বকে আরও গভীর, কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। অভিবাসন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে নিরাপদ, মানবিক ও টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।