বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমাতে নতুন পথে সরকার

দেশের অর্থনীতিতে চাপ কমাতে এবং চলমান গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ জোগাতে বিদেশি সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা বাড়িয়েছে সরকার। বাজেট সহায়তা ও নমনীয় ঋণের জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে।

জাতীয় সংসদের ১৩তম সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২৩তম বৈঠকে রোববার (১২ জুলাই) সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার (নওগাঁ-৩) প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমানো, চলমান অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং বাজেট ঘাটতি কমাতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ এখন ব্রিকস-নেতৃত্বাধীন নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার সঙ্গে বড় আকারের নীতিভিত্তিক ঋণ ও বাজেট সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা ও চুক্তি প্রক্রিয়া দ্রুত করছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অনুমোদন পাওয়া কিন্তু এখনো ছাড় না হওয়া বিদেশি ঋণের অর্থ দ্রুত পাওয়ার জন্য কাজ চলছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নিয়মিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করা হচ্ছে। এসব বৈঠকে প্রকল্পের বাধা দূর করে দ্রুত অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হবে।

এ ছাড়া যেসব প্রকল্প ধীরগতিতে চলছে, সেসব প্রকল্পের অর্থ সরিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ব্যবহারের বিষয়েও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করছে সরকার।

বড় ও মাঝারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়ন ধরে রাখতে সরকার এখনো সহজ শর্তের ঋণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পরও উন্নয়ন অর্থায়ন অব্যাহত রাখতে নতুন কৌশল নেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, বড় অবকাঠামো প্রকল্পে একাধিক উন্নয়ন সহযোগীর যৌথ অর্থায়নের ব্যবস্থা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমে এবং অর্থায়নের ঝুঁকি ভাগ করা যায়।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড, ক্লাইমেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অনুদান ও জলবায়ু অর্থায়ন আনার চেষ্টা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতেও নতুন দ্বিপক্ষীয় অনুদান চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, বাজেট সহায়তা ও বৈদেশিক ঋণের শর্ত পূরণে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের মতো নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশি সহায়তা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে সহায়তা তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাও উন্নত করা হচ্ছে।