১৫ আগস্ট ঘিরে দেশজুড়ে র‌্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

১৫ আগস্ট উপলক্ষে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের নাশকতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ দমনে র‌্যাব পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। সেই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত নিয়মিত অভিযান ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা তৎপর রয়েছে। এ ছাড়াও যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে র‌্যাবের প্রতিটি সদস্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে জনসাধারণের জন্য একটি নিরাপদ বাসযোগ্য সমাজ তথা দেশ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন, উগ্রবাদী গোষ্ঠী বা দুষ্কৃতকারী যাতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে লক্ষ্যে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বেশকিছু বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এগুলো হলো-

১) ১৫ আগস্ট উপলক্ষে প্রত্যেক ব্যাটালিয়ন কর্তৃক নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনাপূর্বক নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

২) নিজ নিজ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মধ্যে সংবেদনশীল স্থানগুলো চিহ্নিতকরণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

৩) ১৫ আগস্ট উপলক্ষে দেশব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি কেন্দ্র করে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী, অন্যান্য নিষিদ্ধ ঘোষিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন এবং রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কুচক্রী মহল যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে ওই সংগঠনগুলোর অপতৎপরতা ও গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

৪) র‌্যাব নিজস্ব নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করবে। তবে এসএসএফ (ক্ষেত্র বিশেষে), দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।

৫) গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি আগাম তথ্য সংগ্রহের জন্য এলাকাভিত্তিক কনট্যাক্ট বা ইনফরমার অথবা সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে।

৬) দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মধ্যে অনুষ্ঠানস্থলে গমনাগমনের রুটগুলোয় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা দল নিয়োগের মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে।

৭) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সন্দেহভাজন ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ব্যক্তিবর্গের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

৮) যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারসহ র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

৯) ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী, দুষ্কৃতকারী বা কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ যাতে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

১০) সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন কর্তৃক নাশকতা ও অপতৎপরতা রোধকল্পে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

১১) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা অপপ্রচার রোধে সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, মন্তব্য বা ছবি আপলোড করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

১২) কোনো স্থানে বিস্ফোরক বা বিস্ফোরক-সদৃশ দ্রব্যসামগ্রী পাওয়া গেলে তৎক্ষণাৎ কার্যক্রম গ্রহণের জন্য র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব জানিয়েছে, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, অপরাধ চিহ্নিত ও প্রতিরোধ করা এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র‌্যাব ফোর্সেস বদ্ধপরিকর। এই অবস্থায় বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাবের পক্ষ থেকে সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে দ্রুতই নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।