কটিয়াদীর ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

কিশোরগঞ্জ সফরকালে কটিয়াদী উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পেশ করা হয়েছে ৫ দফা দাবিপত্র। পরে তিনি তা মঞ্চে বসেই পড়েছেন। শুধু তাই নয়, দাবিগুলো পড়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে সঙ্গে থাকা দাপ্তরিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে চিঠিটি হস্তান্তর করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিশেষ নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এমন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সম্মানি প্রদান ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

সমাবেশের মঞ্চে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা, চাহিদা ও উন্নয়নের কথা তুলে ধরে লিখিত আবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন কটিয়াদীর সন্তান ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান চন্দন। প্রধানমন্ত্রী গভীর মনোযোগ দিয়ে স্থানীয়দের দাবিগুলো পড়েন এবং ঘটনাস্থল থেকেই তা সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করা ৫টি মূল দাবি হলো-

১. নিকলী হাওড় সংযোগ সড়ক উন্নয়ন: পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে কটিয়াদী থেকে নিকলী হাওড়ে যাওয়ার প্রধান সড়কটিকে অনতিবিলম্বে প্রশস্ত ও আধুনিক পিচঢালা মহাসড়কে রূপান্তর করা।

২. হাইব্রিড বীজ উৎপাদন ও কৃষি গবেষণা কেন্দ্র: উর্বর মাটিকে কাজে লাগিয়ে সরকারি বা পিপিপি  মডেলে উন্নত মানের হাইব্রিড ধান ও সবজি বীজ উৎপাদন খামার এবং আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন।

৩. আধুনিক হিমাগার ও ফুড প্রসেসিং প্ল্যান্ট: স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত সবজি ও মৌসুমি শস্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য 'ফুড প্রসেসিং প্ল্যান্ট' নির্মাণ।

৪. হাই-টেক পার্ক ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি সেক্টরে দক্ষ করতে উপজেলায় আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার অথবা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা।

৫. টিটিসি ও বৈদেশিক ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউট: বিদেশ গমনেচ্ছু যুবসমাজকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করতে আধুনিক ড্রাইভিং, মেকানিক্যাল ও বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার সুবিধাসহ একটি পূর্ণাঙ্গ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন।

স্থানীয়দের মতে, কটিয়াদীর সন্তান নুরুজ্জামান চন্দনের এই লিখিত আবেদনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের উন্নয়নবঞ্চনার অবসান ঘটতে পারে। এসব দাবি পূরণ হলে বদলে যাবে কটিয়াদী ও নিকলী হাওড় অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিএনপি জনগণের কল্যাণে এমন রাজনীতি করে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, শিক্ষায় সহায়তা দেয় এবং কৃষকের উৎপাদন বাড়ায়। 

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, মাজহারুল ইসলাম এবং জালাল উদ্দীন।