যুদ্ধ থেকে কারাগার, সেখান থেকে রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবন নানা বাঁকবদলে ভরা। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক আন্দোলন, কারাবরণ এবং দীর্ঘদিনের দলীয় রাজনীতির পথ পেরিয়ে তিনি এবার দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হয়েছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্বেও তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নেন। স্বাধীনতার পর তিনি শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। পরে ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন।

রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছে। বিরোধী দলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবাস তাঁর রাজনৈতিক পথের অংশ হয়ে ওঠে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকেই তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন এবং দলের মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য, দলীয় সংগঠন পরিচালনা এবং বিরোধী রাজনীতিতে ভূমিকা তাঁকে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত করে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হলো। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, শিক্ষকতা, রাজনৈতিক আন্দোলন, কারাবাস এবং দীর্ঘ দলীয় রাজনীতির পর দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে আসীন হওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তাঁর অভিষেক দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।