মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর সুবিধা পাবেন দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করা হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির বিস্তারিত তথ্য জানানো হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন কাঠামোর আওতায় থাকবেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। এ নিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে আজ সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পাবেন।
বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার একটি বড় অংশ সরকার বহন করে। এমপিও বা মান্থলি পে অর্ডারের আওতায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের শতভাগ পান। এর পাশাপাশি চিকিৎসা ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা দেওয়া হয়। গত বছর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে তাঁরা মাসে এক হাজার টাকা বাড়িভাড়া পেতেন।
ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী
দেশে বর্তমানে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় চার লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে এসব শিক্ষক-কর্মচারীর মূল বেতন ও বাড়িভাড়াও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্তর, বিষয় ও পদ অনুযায়ী শিক্ষকদের বেতন গ্রেডে ভিন্নতা রয়েছে। ফলে বর্তমানে যে গ্রেডে যিনি চাকরি করছেন, সেই গ্রেড অনুযায়ী নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পাবেন।
সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি
নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোয় আগের মতো ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। গ্রেডভেদে মূল বেতন বাড়বে প্রায় ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।
নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন বেতনকাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। মূল বেতন ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভাতাগুলো একযোগে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
নিম্ন গ্রেডে অগ্রাধিকার
স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের বেতন বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ গ্রেডগুলোর ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে চলতি বছরের জুলাই থেকে ছয় মাসে বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বাস্তবায়ন হবে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে আরও ২৫ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাই থেকে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ কার্যকর হবে।