সংসদে আখতার

মানবতাবিরোধী অপরাধীদের পাসপোর্ট বাতিল নয় কেন?

মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের পাসপোর্ট কেন বাতিল করে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে না জাতীয় সংসদে এমন প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন।

আখতার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত এবং এখনো কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি, তারা দেশের বাইরে থাকলেও তাঁদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট কেন বাতিল করা হচ্ছে না এ বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

তিনি অভিযোগ করেন, শক্তিশালী আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো বিষয়ে সরকার প্রত্যাশিতভাবে কঠোর আইন করেনি। তার দাবি, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন তদন্তব্যবস্থা প্রয়োজন।

বক্তব্যের জন্য নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেলে স্পিকারের কাছে অতিরিক্ত সময় চান আখতার। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন তাঁকে আরও এক মিনিট বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন।

অতিরিক্ত সময়ে আখতার হোসেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বেনজীর আহমেদের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, তাকে বিচারের আওতায় আনা শুধু একজন ব্যক্তির বিচার হিসেবে দেখলে হবে না। তার অভিযোগ, একটি বাহিনীর দায়িত্বে থাকাকালে গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন এ ধরনের অপরাধ করতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

র‌্যাবের বিলুপ্তি ও নতুন বাহিনী গঠনের প্রসঙ্গও তোলেন এনসিপির এই নেতা। তার দাবি, র‌্যাবের পরিবর্তে একই ধরনের ক্ষমতা নিয়ে নতুন বাহিনী গঠন করা হলে ভবিষ্যতে সেই বাহিনীও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে।

আখতার হোসেন আরও বলেন, সংসদে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত আইন পাস হলেও এসব আইনে বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে স্বাধীনভাবে তদন্তের যথেষ্ট সুযোগ রাখা হয়নি। তার অভিযোগ, এ কারণে গুম বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে জড়িতদের কার্যকরভাবে বিচারের আওতায় আনা কঠিন হতে পারে।

সরকার একদিকে অপরাধে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার কথা বলছে, অন্যদিকে একই ধরনের বাহিনীকে পর্যাপ্ত জবাবদিহির বাইরে রাখছে এমন অভিযোগও করেন তিনি।নিচেরভাবে সংবাদটি আরও প্রাঞ্জল, নিরপেক্ষ ও হার্ড নিউজের কাঠামোয় পুনর্লিখলাম। অভিযোগ ও বক্তব্যগুলো বক্তার নামে স্পষ্ট রাখা হয়েছে।