স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ওয়ার্কপ্ল্যান তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কোন নির্বাচন কবে হবে, কতদিনের মধ্যে নির্বাচন শেষ করা হবে এবং ধাপে ধাপে কীভাবে নির্বাচন আয়োজন করা হবে—এসব বিষয় নির্ধারণে কাজ করছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। এ নিয়ে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন অন্য নির্বাচন কমিশনার ও ইসির সিনিয়র সচিবকে নিয়ে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। সোয়া ঘণ্টার ওই বৈঠকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে আরও বৈঠক করবে কমিশন। আজও বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।
বৈঠকের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমরা বসেছিলাম। আবারও বসতে হবে। আমরা একটি ওয়ার্কপ্ল্যান, স্ট্রাকচার দাঁড় করাচ্ছি। এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’ এতে কী কী থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কীভাবে সম্পন্ন করা হবে, এরপর অন্যান্য নির্বাচন কীভাবে হবে, কবে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, কতদিনের মধ্যে শেষ করা হবে এবং ধাপগুলো কী রকম হবে—এসব বিষয় এতে থাকবে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগে হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনো সিদ্ধান্ত এভাবেই আছে, দেখা যাক।’
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, মধ্য নভেম্বরে একটি ধাপের নির্বাচন করতে চান তাঁরা। সে অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ইসি থেকে স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনের প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, আইন সংশোধন হয়ে এলে সংশোধিত আইনের আলোকে নির্বাচন হবে। আর সংশোধন না হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নির্বাচন হবে।
সূত্র জানায়, বিদ্যমান আইনে নির্বাচন শুরু করা হলে মাঝপথে সংশোধিত আইনের ভিত্তিতে নির্বাচন পরিচালনা করতে চায় না কমিশন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বা না করার বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘কয়েকদিন অপেক্ষা করেন। আইন সংশোধন হলে সেখানে উল্লেখ থাকবে কারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন আর কারা পারবেন না।’ তবে আইন সংশোধন না হলে বিদ্যমান আইনে তাঁদের নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেখছেন না তিনি।
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আইন সংশোধন না হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি অস্পষ্ট থেকে যাবে। কারণ গত ডিসেম্বরে জারি হওয়া ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২’-এ বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক কোনো পদে বা চাকরিতে কিংবা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। এটি তদন্তে প্রমাণিত হলে সরকার তাঁর এমপিও বাতিলসহ দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে।
নীতিমালায় আর্থিক লাভজনক পদ বলতে সরকারের দেওয়া কোনো ধরনের বেতন, ভাতা, সম্মানী এবং বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিকতা বা আইন পেশায় কর্মের বিনিময়ে বেতন, ভাতা বা সম্মানীকে বোঝানো হয়েছে।
এদিকে ইসি কর্মকর্তারা জানান, আগামী বুধবার ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনি এলাকার শূন্য আসনের নির্বাচন এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা করবে ইসি। নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠেয় সভায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সভাপতিত্ব করবেন।
সভায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, মহাপুলিশ পরিদর্শক, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, কোস্টগার্ড, আনসার ও ভিডিপি, ডিজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি, র্যাবের মহাপরিচালক, এসবি, ডিবি ও সিআইডির অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শকের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।