জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) উচ্চ পর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে তিনি অধিবেশনে যোগ দেন। এর আগে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেসসচিব কে এম নাজমুল হক জানান, স্বাগত প্রাতরাশ শেষে প্রধানমন্ত্রী জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে অনুষ্ঠিত সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী পর্বে অংশ নেন। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাধারণ পরিষদের আসন বর্ণানুক্রমে নির্ধারিত হওয়ায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সামনের সারিতে আসন পায়। অধিবেশনস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। পরে তিনি ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিবাদন জানিয়ে নিজ আসনে বসেন। এরপর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উদ্বোধনী বক্তব্য দেন।

গত ২ জুন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ১৯০টি ব্যালটের মধ্যে ৯৯ ভোট পেয়ে খলিলুর রহমান ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, তিনি এ পদে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি।

অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ৩৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এবারের সাধারণ বিতর্কে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক সংঘাত নিরসন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যু আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। ৮১তম অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য ‘Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All’।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে এটিই হবে তাঁর প্রথম ভাষণ। এ ভাষণ বাংলায় দেওয়ার কথা রয়েছে।

জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে ও মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন।

সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশ্ব শান্তি, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং দেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে জানানো হয়েছে।