রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে আয়োজিত এই বৈঠকে গাম্বিয়া ও সহ-আয়োজক দেশগুলোকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান তিনি।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় রোহিঙ্গাদের সফল প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়েছিল। তবে ২০১৭ সালের সহিংসতার পর এই পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে এবং ১২ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিতে হয়।

বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি এই বাস্তুচ্যুতির কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চরম চাপ তৈরি হচ্ছে। তাছাড়া, আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার পরিমাণ কমে যাওয়ায় এই সংকট এখন কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যই এক বিশাল হুমকি।

সংকট উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ প্রস্তাব করেন: একটি স্পষ্ট প্রত্যাবাসন রোডম্যাপ তৈরি, সহিংসতা বন্ধ, পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক আদালতে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি।

তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ চায় রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত না থেকে নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ অধিকার নিয়ে ফিরে যাক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কেবল রাজনৈতিক আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকর পদক্ষেপে এগিয়ে আসার জন্য তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান।