ড. ইউনূসকে জড়িয়ে ধরলেন, কে এই নারী?

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে জড়িয়ে ধরে ছবি তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী কেনেডি পরিবারের সদস্য কেরি কেনেডি। পরে সেই ছবি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে ড. ইউনূসকে নিজের ‘আদর্শ ও প্রিয় বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ নিয়ে বাংলাদেশে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন কেরি কেনেডি। কিন্তু কে এই কেরি কেনেডি?

 

কেরি কেনেডি একজন মার্কিন আইনজীবী, লেখক ও মানবাধিকারকর্মী। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও সিনেটর রবার্ট এফ. কেনেডি ও মানবাধিকারকর্মী এথেল কেনেডির সাত নম্বর সন্তান। ১১ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সপ্তম। তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির ভাতিজিও।

 

চার দশকের বেশি সময়ের মানবাধিকারকর্মী

 

কেরি কেনেডির মানবাধিকারকর্মী হিসেবে কাজের শুরু ১৯৮১ সালে। তখন তিনি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালে কাজ শুরু করেন। এল সালভাদর থেকে আসা শরণার্থীদের সঙ্গে মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মানবাধিকার নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কাজের পথে এগিয়ে যান।

 

এরপর চার দশকের বেশি সময় ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন কেরি। শিশু শ্রম, নারীর অধিকার, গুম, আদিবাসী অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, অভিবাসন, পরিবেশগত ন্যায়বিচারসহ নানা বিষয়ে তিনি কাজ করেছেন। তিনি শতাধিক মানবাধিকার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বও দিয়েছেন।

 

কেরি কেনেডি বর্তমানে রবার্ট অ্যান্ড এথেল কেনেডি হিউম্যান রাইটস-এর প্রেসিডেন্ট। প্রতিষ্ঠানটি মানবাধিকার রক্ষা, সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনা ও কৌশলগত আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে।

 

প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে থেকে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার ইস্যুতে কাজ করেছেন। ১৯৮৮ সালে রবার্ট এফ. কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

 

লেখক হিসেবেও পরিচিত

 

কেরি কেনেডি শুধু মানবাধিকারকর্মী নন, একজন লেখকও। তার উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘স্পিক ট্রুথ টু পাওয়ার’, ‘বিং ক্যাথোলিক নাও’  এবং তার বাবা রবার্ট এফ. কেনেডিকে নিয়ে লেখা ‘রবার্ট এফ. কেনেডি: রিপলস অব হোপ।’  মানবাধিকারকর্মীদের সংগ্রাম ও তাদের অভিজ্ঞতা নিয়েও তিনি কাজ করেছেন।

 

 

মানবাধিকার নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মানও পেয়েছেন। পোল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট লেখ ভাওয়েন্সার কাছ থেকে সম্মাননা এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীদের কংগ্রেসের মানবিক পুরস্কারসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

 

ড. ইউনূসের সঙ্গে সম্পর্ক কী?

 

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কেরি কেনেডির পরিচয় ও যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। কেরি নিজেই তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাম্প্রতিক পোস্টে ইউনূসকে নিজের ‘আদর্শ ও প্রিয় বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আবারও তার সঙ্গে দেখা হওয়ার বিষয়টি তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

 

ফলে নিউইয়র্কে দুজনের সাম্প্রতিক সাক্ষাতের ছবি কেবল একটি সৌজন্য সাক্ষাতের ছবি নয়; এটি দীর্ঘদিনের মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারকেন্দ্রিক যোগাযোগেরও প্রকাশ হিসেবে সামনে এসেছে।

 

কেরি কেনেডির পারিবারিক পরিচয় যেমন তাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক পরিবারের সঙ্গে যুক্ত করেছে, তেমনি কয়েক দশকের মানবাধিকার কর্মকাণ্ড তাকে নিজের পরিচয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

 

সূত্র: কেনেডি হিউম্যান রাইটস, ন্যাশনাল আর্কাইভস