জটিলতা কাটিয়ে রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি আসছে শুক্রবার

পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের জটিলতা কাটিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুকেন্দ্রের জ্বালানি আগামীকাল শুক্রবার দেশে আসছে। ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

সব কিছু ঠিক থাকলে রাশিয়া থেকে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে এ জ্বালানি শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরের মধ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। এরপর শনিবার কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় তা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো জটিলতা দেখা দেয়নি।

আজ বৃহস্পতিবারই জ্বালানি দেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। শেষ মুহূর্তে ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়। এক দিন পিছিয়ে শুক্রবার নতুন করে জ্বালানি পরিবহনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, স্পর্শকাতর এই পারমাণবিক জ্বালানি বিশেষ কার্গো বিমানে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দেশে আনা হচ্ছে। বিমানটি যেসব দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করবে, সেসব দেশের কাছ থেকে আগাম অনুমতিও নিতে হয়। 

বৃহস্পতিবার রাশিয়া ও বাংলাদেশ এ বিষয়ে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করতে হয়।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গো এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি কার্গোতে মোট ৯টি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনা হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো জ্বালানি সরবরাহ শেষ করার কথা জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন (রসাটম)।

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।

জানা গেছে, রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় রসাটম ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।