লটারিতে বদলি হয়ে ১৮ সাব-রেজিস্ট্রার ঢাকায় এলেন

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লটারির মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে বদলির জন্য ১৮ জন সাব-রেজিস্ট্রারকে নির্বাচিত করা হয়েছে। সারাদেশের এ ক্যাটাগরির ১৩১ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্য থেকে লটারিতে তাদের বাছাই করা হয়।

মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে এ লটারি অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচিত কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের কাজের চাপ বিবেচনায় নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পদায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

লটারিতে নির্বাচিতরা হলেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সাব-রেজিস্ট্রার রিপন চাকমা, যশোর সদরের আমিনা বেগম, মানিকগঞ্জের ঘিওরের শর্মিলা আহমেদ সম্পা, মুন্সীগঞ্জ সদরের আলী আজগর, টাঙ্গাইলের গোপালপুরের রাজীব মজুমদার, চট্টগ্রামের বাঁশবাড়িয়ার শিংমং থোয়াই এবং ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের মনিষা রায়।

এ ছাড়া কুমিল্লার দাউদকান্দির মোহাম্মদ হানিফ, সাতক্ষীরার শ্যামনগরের নাজনীন জাহান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের এস এম আবু মুসা, পিরোজপুরের নাজিরপুরের মোহাম্মদ মাসুম, নরসিংদীর মনোহরদীর গোবিন্দ সাহা, কুষ্টিয়া সদরের রাশেদ মল্লিক, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার অমিত মঙ্গল চাকমা এবং চুয়াডাঙ্গা সদরের অজয় কুমার সাহাও লটারিতে ঢাকায় বদলির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

অন্যদিকে চাঁদপুরের চিতলমারীর ফরিদা আক্তার, সাতক্ষীরা সদরের অমাইক বাবু এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গোলাম মর্তুজা নির্বাচিত হয়েছেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ঢাকার জন্য নির্বাচিত ১৮ কর্মকর্তার মধ্যে দক্ষতা ও কাজের চাপ বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পদায়ন করা হবে। ঢাকার সব কার্যালয়ে কাজের চাপ সমান নয়। তাই একজন কর্মকর্তা যে পরিমাণ কাজ সামলাতে পারবেন, সেটি বিবেচনায় রেখেই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

সাব-রেজিস্ট্রারদের প্রাইজ পোস্টিংয়ে বদলির উদ্যোগ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, জনমনে যেসব জায়গাকে দুর্নীতির আখড়া হিসেবে মনে করা হয়, সেখানে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ভাঙতেই এই প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এটি একটি শুরুর প্রক্রিয়া, যা চলমান থাকবে। লটারিতে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের সাধারণভাবে সার্ভিস রুল অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দুর্নীতিতে জড়ালে তাকে রাখা হবে না।

সারাদেশে বর্তমানে ২৩২ জন সাব-রেজিস্ট্রার কর্মরত এবং ১৩৯টি পদ খালি রয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, শূন্য পদগুলোতে পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে।

সাব-রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত ছয় মাসে এ ধরনের অভিযোগে প্রায় ১০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।